দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশে বৃষ্টি-বন্যায় ৮৭ মৃত্যু

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

প্রবল বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চলতি সপ্তাহে অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বন্যায় এই তিন দেশে- কৃষিজমি, অবকাঠামো ও সরকারি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারতে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম। রাজ্য কর্র্তৃপক্ষ গত বুধবার সেখানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ফলে এ সপ্তাহে আসামে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। এ ছাড়া এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। গত বুধবার এক বুলেটিনে আসামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা সেখানে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। রাজ্যের ১১টি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে রাজ্য সরকারের এক প্রতিবেদনে চলমান বন্যার মূল কারণ হিসেবে গত ১৮ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ডে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগাল্যান্ডে ওই সময়ের বৃষ্টির কারণে আসামের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় নদী বহ্মপুত্র আসামের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। প্রায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রবাহিত বাড়তি পানির কারণে নদীটির দুকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ও পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে বন্যায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উভয় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নুরিস্তান প্রদেশের বাসিন্দা মুজিব উর রহমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বন্যার তোড়ে বাড়ি ও হোটেলগুলো ভেসে গেছে। সবকিছু চলে গেছে, ব্যাপক মাত্রায় ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। যারা আটকাপড়ে আছেন তাদের উদ্ধারে মেশিনপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমণের ক্ষেত্রে দায় স্বল্প হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাদের অন্যতম। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উভয় দেশেই বন্যা, খরা, হিমবাহের গলন ও পানি স্বল্পতা লাখ লাখ মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত