ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার ২ বোন

ঈদের ছুটি শেষে গ্রাম থেকে দুই বোন গত শনিবার রাতে ঢাকায় ফেরেন। দুটি রিকশায় মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে নামেন। রিকশা থেকে লাগেজ নামিয়ে দাঁড়ানোর পরপরই ছিনতাইয়ের শিকার হন তারা। চাপাতির মুখে এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের মধ্যে দুই ছিনতাইকারী সব মালামাল নিয়ে যায়। এর মধ্যে কোরবানির মাংস, ফোন, স্বর্ণালঙ্কারও ছিল। পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরায় ছিনতাইয়ের দৃশ্য ধরা পড়ে। এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছিনতাইকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

গতকাল সোমবার মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেছবাহ উদ্দিন জানান, ভিডিওতে যে দুই ছিনতাইকারীকে দেখা যাচ্ছে, তাদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। পুলিশ জানায়, দুই বোন ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে শ্যামলীতে নামেন। পরে রিকশায় নূরজাহান রোডে বাসার সামনে যান। বাসার সামনেই তারা ছিনতাইয়ের শিকার হন।

গতকাল ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই বোন রিকশা থেকে নেমে বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের পাশে দুটি বড় লাগেজ ও দুটি ছোট ব্যাগ রাখা ছিল। দুজন রিকশাচালক পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় চাপাতি হাতে লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি সেখানে আসেন। মাথায় ক্যাপ ও গায়ে কালো গেঞ্জি। তিনি একজন রিকশাচালককে প্রথমেই ধাক্কা দেন। এরপরই চাপাতি হাতে থাকা ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজনকে দেখা যায়, তার পরনে প্যান্ট। চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, ব্যাগসহ জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। দুই নারী ভয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলেন।

জানা গেছে, ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া দুজনের মধ্যে বড় বোন রাজধানীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং ছোট বোন মোহাম্মদপুর এলাকার একটি কলেজের এমবিএর শিক্ষার্থী। তারা মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের এম গলির ২৬ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে থাকেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, পিকআপভ্যান থামায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। এর মধ্যেই পিকআপ থেকে লুঙ্গি ও ক্যাপ পরা এক ব্যক্তি হাতে চাপাতি নিয়ে নেমে হামলা করতে এগিয়ে আসে এবং চিৎকার করতে নিষেধ করেন। আমরা কল্পনাও করিনি, এভাবে সব কিছু নিয়ে যাবে ছিনতাইকারীরা। ভেবেছিলাম শুধু টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাবে। আমার বোন তার মোবাইল ফোন ও ছোট একটি ব্যাগ শ্যামলীতে রিকশার সিটের নিচে রেখে দিয়েছিল। সেগুলো নিতে পারেনি ছিনতাইকারীরা। পরে বাসায় ঢুকে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ আসে। রবিবার তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।