জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমন মন্তব্য করেছেন।
সোমবার থেকে প্রতি লিটার অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন কমছে, তখন দেশে তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে মে মাসের শুরুতে যেখানে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার, সেখানে গতকাল সেই দাম ছিল ৮৮ ডলার।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে এবার সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত দাম কমানোর বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত অনুযায়ী দেশে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। গত এপ্রিলে মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে মে মাসে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, সরকার কখনো অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না।
ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন খরচ এবং কৃষির উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। গত এপ্রিলে এক লাফে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। তখন বাসভাড়াও বাড়ায় সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজেলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম রাখতে এবারও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তারপরও কিছু খাতে পরিস্থিতির কারণে সমন্বয় করতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির পর সরকার অতি দ্রুত দাম বাড়িয়ে লোকসান কমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে ঠিক একই হারে দাম কমানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, অতীতে দাম কমানোর ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা খুব ইতিবাচক নয়। তবে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে এলে জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।