অকাল জন্ম ও বাড়তি চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুর হার আশানুরূপভাবে কমেনি। যেসব কারণে নবজাতক শিশু মারা যায়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো সময়ের পূর্বে জন্ম নেওয়া ও এ সম্পর্কিত জটিলতা। বিশ্বের যে কয়টি দেশে সময়ের পূর্বে নবজাতক জন্মের (৩৭ সপ্তাহ গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার পূর্বে) হার বেশি বাংলাদেশ তার মধ্যে শীর্ষস্থানীয়। আমাদের দেশে শতকরা ১৬ ভাগ নবজাতকই ৩৭ সপ্তাহের পূর্বে জন্মগ্রহণ করে।

জটিলতা

অপরিণত নবজাতকের নানাবিধ জটিলতা হতে পারে যেমন : শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস (হলুদ হয়ে যাওয়া), শ্বাস বন্ধ করে ফেলা, পেট ফুলে যাওয়া, খিঁচুনি ইত্যাদি। এসব জটিলতার সঠিক চিকিৎসা ও বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। এ ধরনের বিশেষ নবজাতকদের ডেলিভারি যখন আসন্ন, হাসপাতালে ডেলিভারি হওয়া খুবই জরুরি। পাশাপাশি যেসব হাসপাতালে নবজাতক আই সি.ইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রয়েছে দ্রুত সেই জায়গায় অপরিণত নবজাতকদের রেফার তথা স্থানান্তর করতে হবে।

কারণ

মায়ের অপুষ্টি, ঘন ঘন সন্তান প্রসব দেওয়া, মায়ের অসুস্থতা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি। এ ছাড়াও জমজ শিশু জন্ম নিলে, গর্ভকালীন অবস্থায় শিশুর জটিলতা এসব কারণেও সময়ের পূর্বে নবজাতকের জন্ম হতে পারে।

চিকিৎসা

অপরিণত নবজাতকরা কম ওজনে জন্মানোর জন্য তাড়াতাড়ি ঠান্ডা (ঐুঢ়ড়ঃযবৎসরব) হয়ে যায়। এ জন্য ডধৎসবৎ-এ রাখতে হয়। জন্মের পর ওদের শাসকষ্ট হতে পারে, তাই কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মেশিন যেমন : ঈচঅচ (সিপ্যাপ), ভেন্টিলেটর, দীর্ঘদিন অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় হতে পারে। জন্ডিসের জন্য ফটোথেরাপি মেশিন লাগতে পারে। যেহেতু নিজেরা বুকের দুধ টেনে খেতে পারে না, তাই নাকে, মুখে নল দিয়ে দুধ খাওয়াতে হয়। এ ছাড়া ২৫০০ গ্রামের কম জন্ম ওজন থাকলে তাদের ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার সেবা দেওয়া হয়। এতে শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়মিত থাকে, ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ খেতে পারে, ওজন বৃদ্ধি পায় ও হাসপাতাল থেকে দ্রুত ছুটি দেওয়া যায়।

পরামর্শ

অপরিণত নবজাতকরা দীর্ঘদিন চিকিৎসার কারণে দীর্ঘমেয়াদি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। এ জন্য তাদের চোখ (Retinopathy of Prematurity), কান (Hearing), থাইরয়েড স্ক্রিনিং করতে হবে। অপরিণত নবজাতকদের বিভিন্ন জটিলতা ও মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যে গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত চেক-আপ, হাসপাতালে ডেলিভারি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার বিকল্প নেই।