পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সব কমিটি বিলুপ্ত

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা এমনিতেই বেগতিক ছিল। এরই মধ্যে দলের একাংশের বিধায়কদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ দলটিকে আরও সংকটে ফেলে দিয়েছে। গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গে দলের মূল কমিটিসহ সহযোগী সংগঠনের সব কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ এর সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো। পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় তৃণমূল এবার মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত আসে দলটির ভেতর প্রকাশ্য বিদ্রোহের মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে। গতকাল বুধবার তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত অন্তত ৫৮ বিধায়ক দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। অথচ দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত সোমবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরেক নতুন বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। বহিষ্কৃত হওয়ার আগে ঋতব্রত তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের প্রধান ছিলেন। ঋতব্রত ও সন্দীপনের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে দেখা করে ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা ও জাভেদ খানকে উপ-বিরোধীদলীয় নেতা এবং রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, আইনগতভাবে এই পদক্ষেপের কোনো ভিত্তি নেই। বিধায়কদের এমন চিঠি দেওয়ার কোনো একক এখতিয়ার নেই। বিধানসভার স্পিকারের কাছে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিটিই একমাত্র বৈধ চিঠি।

গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বুধবারের সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, ভবিষৎ এ জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সব সংগঠন নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। কারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল নয়। বরং ক্ষমতা হারানোর পর দলকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্র্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টাও এর মধ্যে রয়েছে।