দেশের উত্তর ও দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ ঈদুল আযহার ছুটি শেষে পাটুরিয়া-আরিচা ঘাট হয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। ঈদ যাত্রায় সস্তিতে গেলেও ফেরার পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরিচা-পাটুরিয়া ঘাট থেকে বাসে বিভিন্ন রুটে কর্মস্থলে ফেরার পথে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, পাটুরিয়া, আরিচা ও পাটুরিয়া সংযোগমোড়ে সেলফি, নীলাচল, সেবালিংক, স্বপ্নপুরী, শুভযাত্রা, স্বাধীন পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস ঢাকায় যাচ্ছে। এখান থেকে ঢাকার গাবতলীর বাড়া ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। সাভার-নবীনগর ১৫০ টাকায় পরিপর্তে ২০০ করে ভাড়া ও নীলাচল পরিবহনে চিটাগাং রোড রুটে নির্ধারিত ২৫০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। তবে, এসব ঘাট ঘুরে প্রশাসনের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।
কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অভিযোগ ঈদের আগে ও পরে প্রতি বছরই এ ঘাট গুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়ে থাকে। তবে, এ বছর এসব ঘাটে যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া বন্ধে সার্বক্ষণিক প্রশাসনের ঘাট এলাকায় নজরদারী থাকলে নির্ধারিত ভাড়ায় কর্মস্থলে ফেরা সম্ভব।
গাবতলীগামী মো. বাদল হোসেন বলেন, উথলী সংযোগ মোড়ে প্রায় ১ ঘণ্টার অপেক্ষার পর সেলফি গাড়ি পেয়েছি। কিন্তু ঈদের ছুটিতে গাবতলী থেকে ১৫০ টাকায় আসলেও এখন যাওয়ার পথে ৩০০ টাকা করে ভাড়া চাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া কারও কারও জুলুম হয়ে যাচ্ছে। ১৫০ টাকা জায়গায় ২০০ টাকা নিয়েও হয়। কিন্তু ৩০০ টাকা অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
অপর যাত্রী গার্মেন্টস শ্রমিক সোহেল হোসেন যাচ্ছেন সাভারের সিএনবি। তিনি নীলাচল পরিচহন উঠেছেন। এখানেও তার কাছ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। গাড়ি কম থাকায় ১৫০ টাকা ভাড়া ২০০ টাকা যেতে হচ্ছে তাকে।
অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে নীলাচল পরিবহনের স্টাফ আনোয়ার বলেন, এখান থেকে গাড়ি ভর্তি যাত্রী নিয়ে গেলেও আসার সময় গাড়ি খালি নিয়ে আসতে হচ্ছে। যে কারণে তাদের অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে যেতে হচ্ছে।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘাটগুলোতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিটি যাত্রীর কাছে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব নয়। যাত্রীরা অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগও থাকে না।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরাও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে ফিরতে পেরেছেন। যারা এখনও বাড়িতে অবস্থান করছেন, তারা ৪ থেকে ৬ জুনের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নিজেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। এছাড়া সড়কে হাইওয়ে পুলিশকে প্রতিটি বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে কি না, তা খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শুধু চালকের বিরুদ্ধে নয়, সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।