প্যানক্রিয়াটাইটিস ও আমাদের খাদ্যাভ্যাস

আমাদের খাবার হজমের পেছনে অগ্ন্যাশয় নামের ছোট গ্রন্থি অনেক ভূমিকা রাখে। এই অঙ্গটি না থাকলে শুধু হজমই নয়, রক্তে শর্করার ভারসাম্যও ভেঙে পড়ে। অথচ অনেকেই জানেন না, এই অগ্ন্যাশয় প্রদাহগ্রস্ত হলে সেটি জীবনকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় প্যানক্রিয়াটাইটিস। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বমি, হজমে অস্বস্তি থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সবই হতে পারে এই রোগে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কারণ

পিত্তথলির পাথর, অতিরিক্ত মদ্যপান, রক্তে চর্বির আধিক্য, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সংক্রমণ, বংশগত কারণ ও পেটের আঘাত, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। এ রোগ সাধারণত দুভাবে হতে পারে ১. হঠাৎ শুরু হয়, সঠিক চিকিৎসায় সেরে উঠতে পারে। ২. দীর্ঘস্থায়ী এবং ধীরে ধীরে অগ্ন্যাশয়ের স্থায়ী ক্ষতি করে।

যেসব খাবার খাওয়া উচিত

১. শর্করা : ভাত (সাদা ভাত বা নরম খিচুড়ি) সাদা পাউরুটি, পাতলা স্যুপ বা সেমাই বা সাগু, ওটস, সুজি, নুডলস (কম তেল ও মসলায় রান্না করা)

২. প্রোটিন : মাছের পাতলা ঝোল (রুই, কাতলা, শিং, তেল কম এমন মাছ) মুরগির মাংস (চামড়া বাদ দিয়ে সেদ্ধ বা ঝোল) ডিমের সাদা অংশ (সেদ্ধ বা ওমলেট আকারে)

৩. শাকসবজি ও ফল : লাউ, কুমড়া, করলা, পালং, পুঁই, আলু, পেঁপে, পাকা পেঁপে, কলা, আপেল (খোসা ছাড়িয়ে), নাশপাতি, চিনি ছাড়া পাতলা ফলের জুস

৪. পানীয় : প্রচুর পানি, ডাবের পানি (অল্প অল্প করে) স্যুপ, ওরাল স্যালাইন, গ্রিন টি (চিনি ছাড়া)

এড়িয়ে চলা

ভাজা, ঝাল, মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার, লাল মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার, সফট ড্রিংকস, কফি, মদ্যপান, ফাস্টফুড, স্ন্যাকস, চিপস, আচার, মিষ্টি, চকলেট, আইসক্রিম, ঘন দুধের তৈরি খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার জীবনযাত্রার পরিবর্তন অ্যালকোহল ও ধূমপান বাদ দেওয়া। খুব গরম বা খুব ঠা-া খাবার এড়িয়ে চলা। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া যাবে না। প্রচুর পানি অল্প অল্প করে পান করা। হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা বা যোগ ব্যায়াম করা উচিত। ছোট ছোট ভাগে দিনে ৫ থেকে ৬ বার খেতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।