কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ১২ হাজার পিস মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করেছে ৬৪ বিজিবি। তবে এ সময় কোনো মাদক পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, গত ৪ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়ার পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিওপি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুইজারখাল এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে টহল দল দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি নন-লেথাল (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাচারকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা দুটি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা নীল রঙের বায়ুরোধী ৩০টি প্যাকেট থেকে মোট ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, ৫ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৭ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিওপি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছাকের ঘের এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে থার্মাল ডিভাইসের মাধ্যমে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র থেকে তাৎক্ষণিক দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পাচারকারীরা তাদের বহন করা তিনটি পলিথিনের প্যাকেট ফেলে রেখে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা নীল রঙের বায়ুরোধী ২০টি প্যাকেট থেকে মোট ২ লাখ ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট পরিমাণ ৫ লাখ ১২ হাজার পিস। তবে পলাতক চোরাকারবারীদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের শনাক্ত ও আটকেরে লক্ষ্যে এলাকায় চিরুনি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পলাতক মাদক পাচারকারীদের শনাক্ত ও আটকে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।