দেশে ডেঙ্গু শুধু মৌসুমি রোগের নাম নয়, জনস্বাস্থ্য সংকটও। ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ, যা মূলত এডিস (অবফবং ধবমুঢ়ঃর ও অবফবং ধষনড়ঢ়রপঃঁং) মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গিঁটে তীব্র যন্ত্রণা, বমি, ত্বকে লালচে দাগের সাধারণ উপসর্গ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রূপ নিয়ে প্রাণঘাতী হতে পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলার কার্যকর উপায় চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধ। কারণ এখনো ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার, মশা নিরোধক ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরিধান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ ও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা শুধু প্লাটিলেট সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, রক্তচাপ, রক্তের ঘনত্ব এবং সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গুজব বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকে জ¦র হলে গুরুত্ব দেন না, একে সাধারণ জ¦র-সর্দি ভেবে কালক্ষেপণ করেন এবং প্রায়ই জটিল ও মুমূর্ষু হয়ে হাসপাতালে যায়, ততক্ষণে কিছুই করার থাকে না। পাশাপাশি অনেক রোগী জ¦র হলে পাড়া-মহল্লার ছোট ছোট ক্লিনিকে ভর্তি হয়, যেখানে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তাই অসুখের শুরুতেই এমন হাসপাতাল দরকার, যেখানে রোগীর জীবন বাঁচানোর সব আয়োজন রয়েছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ পরিবর্তন প্রায়ই দেখা যায় স্নায়বিক দুর্বলতা, কালো পায়খানা এবং শ্বাসকষ্ট । যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। আবার কোনো কোনো রোগীর জ¦রের উপসর্গ দেখা দিলে ডেঙ্গু টেস্ট পজিটিভ আসে না, তখন রোগীর ডেঙ্গু হয়নি ভেবে গুরুত্ব দেয় না, তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। তাই সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে হবে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল সরকারের নয়; নাগরিক, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি মশা যেমন একটি পরিবারকে শোকের অন্ধকারে ডুবিয়ে দিতে পারে, তেমনি একটি সচেতন পরিবার একটি মহল্লাকে নিরাপদ রাখতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, জ্ঞান, সতর্কতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়েই ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।