পাখিদের আত্মহত্যা

ভারতের আসামের ডিমা হাসাও জেলার জাটিঙ্গা গ্রামে প্রতি বছর পাখিদের আত্মহত্যার ঘটনা অবাক করছে মানুষকে। কোন রহস্যময় কারণে পাখিরা আত্মহত্যা করে, তা চূড়ান্ত জানা যায়নি। জাটিঙ্গা গ্রামের ওপর দিয়ে উড়তে উড়তে আকাশ থেকে টুপটাপ করে পড়তে থাকে মৃত পাখিরা। ঘটনার শুরু ১৯০৫ সালে। তখন জাটিঙ্গা গ্রামে বাস করতেন একদল নাগা। সে বছর বর্ষার এক অমাবস্যার রাতে একটা মহিষ খুঁজতে বাইরে বেরিয়েছিলেন নাগারা। মশাল জ্বালিয়ে বরাইল পর্বতশ্রেণির জাটিঙ্গা শৃঙ্গের কাছে গিয়ে মহিষ খোঁজার সময় পাখির মৃতদেহ তাদের ওপর বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে। কুসংস্কারবশত নাগারা ভেবেছিলেন, অশুভ আত্মার ছায়া পড়েছে তাদের ওপর। ফলে এলাকা ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে আজও পাখির মৃতদেহের বৃষ্টি চলছে। পাখিদের আত্মহত্যা নিয়ে বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানের মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, আকাশে উড়তে থাকা ‘দুষ্ট আত্মারা’ এই পাখিদের নামিয়ে আনে। তবে সব পাখিদের নয়। যেসব পাখি ‘দুষ্ট আত্মা’কে অপমান করে, তাদেরই নিচে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু গবেষকরা বলছেন দূর থেকে উড়ে আসতে আসতে জাটিঙ্গা গ্রামের আলো দেখে, পাখিরা সেই গ্রামে নামে। আর এই গ্রামে এসেই যেন হঠাৎ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে পাখির দল। অজানা দুঃখে প্রাণত্যাগ করে। যদিও এর সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারেননি। পক্ষী গবেষক ড. সুধীন  সেনগুপ্তের মতে, জাটিঙ্গা পাহাড়ের চূড়ায় পাথরে থাকা উচ্চ চুম্বকশক্তিযুক্ত খনিজ পদার্থ এবং উপত্যকার নিচে বর্ষার পর মাটিতে বেড়ে যাওয়া পানির স্তর একত্র হয়ে এলাকার মাধ্যাকর্ষণ এবং চুম্বকশক্তির অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পাহাড়ের পরিবর্তনশীল আবহাওয়া। এ সবের প্রভাব পড়ে পাখির স্নায়ুতন্ত্রের ওপর। ফলে তারা আত্মহত্যা করে। ড. সুধীন সেনগুপ্তের গবেষণার সঙ্গে একমত হয়েছেন, ব্রিটিশ পক্ষী বিশেষজ্ঞ ফিলিপ গ্র্যান।