ইনায়া আহসান
শিক্ষার্থী, চতুর্থ শ্রেণি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ
কোরবানির ঈদ মুসলিমদের একটি বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে সমগ্র মুসলিম সমাজ পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করে। হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) এর অনন্য ত্যাগের আদর্শ অনুসরণে এটি উদযাপিত হয়, যা মানুষের ভেতরের পশুত্ব, লোভ ও অহংকার বিসর্জন দিয়ে আল্লাহভীতি অর্জনের শিক্ষা দেয়।
কোরবানির ঈদে আমি দাদার ও নানার বাড়িতে বেড়াতে যাই। আমার দাদার বাড়ি গ্রামে। স্কুল বন্ধ হলে আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে যাই। গ্রামের গাছপালা, পুকুর, মেঠোপথ আমার খুব ভালো লাগে। বাড়িতে আমার অনেক বন্ধু আছে, তাদের সঙ্গে খেলা করে অনেক আনন্দ হয়। ঈদের আগে দাদা ও বাড়ির অন্যরা মিলে গরু কিনে আনে কোরবানি করার জন্য। আমরা কোরবানির আগ পর্যন্ত গরুকে খাওয়াই, যত্ন করি।
ঈদের দিনে সকালে দাদা, বাবা, চাচা সবাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করে খাবার খেয়ে নামাজে যায় আর আমি গোসল করে নতুন জামা পরি। নামাজ শেষ হলে সবাই গরু জবাই করতে যায়। দাদি, চাচি, মা সবাই মিলে সকালে সেমাই, রুটি ও অন্যান্য মজার খাবার রান্না করে। সকালে নাস্তা করে বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে গরু জবাই ও মাংস কাটা দেখি। সবার ঘরে যাই ও ঈদের সালাম করি। দুপুরের দিকে, যারা কোরবানি দিতে পারেনি দাদার সঙ্গে তাদের মাংস বিতরণ করি। মাংস বিতরণ করতে আমার খুব ভালো লাগে। বাবা বলে, গরিব দুঃখী মানুষ যারা সারা বছর মাংস কিনতে বা খেতে পারে না তারা সারা বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকেলে বাবা ও মায়ের সঙ্গে হাঁটতে বের হই। গ্রামের চারপাশের সবুজ গাছপালা, পুকুর, ফসলের ক্ষেত দেখতে খুব ভালো লাগে। সবুজের মধ্যে অনেক ছবি তুলি।
ঈদের পরদিন ফুপির গ্রামের বাড়িতে যাই। অটো রিকশায় চড়ে গ্রামে বেড়াতে অনেক মজা লাগে। ফুপির গ্রামের বাড়ি অনেক বড় আর সুন্দর। ওখানে গিয়ে আমার তিন ফুফাত বোন অদ্রি ও অর্থি আপু ও অতশীর সঙ্গে সারা দিন খেলা করি, পুকুরে গোসল করি। ফুপি আমাদের জন্য অনেক কিছু রান্না করে। ফুপির বাড়ি আমার দাদার বাড়ির কাছে তাই সারা দিন আনন্দ করে বিকেলে দাদার বাড়িতে ফিরে আসি।
আমার নানার বাসা শহরে দাদার বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। ঈদে বাড়িতে গেলে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাই। নানার বাড়িতে ছোট খালামণি ও ছোট্ট রুহাবের সঙ্গে খেলতে আমার অনেক ভালো লাগে। নানার বাড়ির ছাদটা আমার খুব পছন্দের। বিকেলবেলা নানার সঙ্গে ছাদে হাটতে যাই। ঈদে নোয়াখালী গেলে দাদার আর নানা বাড়িতে কয়েকদিন বেড়াতে পারি কিন্তু বাবার অফিস আর আমার স্কুল, পরীক্ষার কারণে চলে আসতে হয়। আসার সময় সবাইকে ছেড়ে আসতে খুব কষ্ট হয়।
ঢাকায় ফিরে আবার মনে হয় গ্রামে ফিরে যাই। মন খারাপ নিয়ে চলে আরও এক বছরের প্রতীক্ষা।