ছয় দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। একই দাবিতে ক্লাসও বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে তারা কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু হয় এবং সকাল ১১টা থেকে বর্জন করে শিক্ষার্থীরা।
সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. ইরফানুর রহমান জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চলছে। ছয়টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি চলবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মবিরতি পিছিয়েছিলাম। প্রশাসনকে শুরুতে ৪৮ ঘণ্টা ও পরে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবিগুলো হলো
১. ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে সংশোধিত নির্দেশনা জারি
২.‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তার বাস্তবায়ন;
৩.ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু করা;
৪.বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৪ বছর করা;
৫ বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর;
৬. ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিএমডিসি ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ভর্তি ও পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা।