হেয়ার সাইক্লিং কেন মানবেন

ব্যস্ততায় অনেকেই চুলের নিয়মিত যত্ন করতে পারেন না। তার ওপর দূষণ, ধুলা কিংবা বিভিন্ন হরমোনাল চেঞ্জের ফলে চুলে নানা ধরনের সমস্যা শুরু হয়। এক্ষেত্রে হেয়ার সাইক্লিং ট্রেন্ড ফলো করতে পারেন। যার ফলে সহজে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও ঝলমলে চুল পাবেন।

হেয়ার সাইক্লিং ট্রেন্ড

হেয়ার সাইক্লিং ট্রেন্ড হেয়ার রিসেটিং নামেও পরিচিত। প্রতিবার চুল পরিষ্কার করার সময় চুলের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী আলাদা আলাদা প্রসাধন ব্যবহার করা হয়। এই রুটিনটিকেই হেয়ার সাইক্লিং বলে। অর্থাৎ এই ট্রেন্ডে একটি প্রসাধনের বদলে কয়েকটি প্রসাধন যেমন শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, হেয়ার মাস্ক হেয়ারকেয়ার রুটিনে যুক্ত করা হয়। পরিবর্তন করে ব্যবহার করার ফলে চুলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

আমরা সাধারণত চুল পরিষ্কারের জন্য একটি শ্যাম্পু ও একটি কন্ডিশনারই নিয়মিত ব্যবহার করি। কিন্তু সমস্যা হলো এই একেকটি প্রসাধন একেক ধরনের চুলের ধরনের জন্য উপযোগী। আবার একই ধরনের প্রসাধন লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করলে আমাদের স্ক্যাল্প ও চুলের এই প্রসাধনগুলো পুরোপুরি সুফল পায় না। তাই যারা বিভিন্ন চুলের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের চুলের যতেœ একটি শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার মোটেই যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য হেয়ার সাইক্লিং হতে পারে ভালো সমাধান।

হেয়ার সাইক্লিং সুবিধা

হেয়ার সাইক্লিংয়ের মূল সুবিধা হলো এটি ফলো করলে নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, আপনার যদি চুলে খুশকি ও নির্জীব চুলের সমস্যা থাকে, তাহলে আপনি এই সমস্যাগুলো টার্গেট করে ফর্মুলেট করা দুটো আলাদা প্রসাধন পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে করে অল্প সময়েই আপনার চুলে খুশকি যেমন কমবে, সেই সঙ্গে নিস্তেজ ভাবও চলে যাবে। আমাদের হেয়ার ফলিকলগুলোকে সতেজ ও মজবুত করে তুলতে সাহায্য করবে। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয়। এছাড়া হেয়ার সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আমাদের স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল অয়েল ব্যালেন্স হয়।

হেয়ার সাইক্লিংয়ের ধাপ

হেয়ার সাইক্লিং করার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হর্বে। যেমন ন্যাচারাল হেয়ার টাইপ, হেয়ার টেক্সচার, প্রেফারড হেয়ার স্টাইল, ওয়েদার, হরমোন লেভেল, স্ট্রেস লেভেল ও অবশ্যই জানা থাকতে হবে। এই প্রতিটি প্রসাধন সম্পর্কে জেনে ব্যবহার করা। এরফলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

প্রথম ধাপ : চুল পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজিং

হেয়ার সাইক্লিং করার জন্য সপ্তাহে প্রথমে যখন চুল পরিষ্কার করবেন, তখন প্রসাধন হিসেবে শুরুতেই নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডের ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পু ও স্ক্যাল্প স্ক্রাব বেছে নিতে পারেন। ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পুতে ৮০ থেকে ৯০ পারসেন্ট পানি এবং হেভি সারফেকট্যান্ট, যেমন অ্যামোনিয়াম সোডিয়াম লরাইল সালফেট, ক্লোরাইড থাকে। এই উপাদান ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ময়লা, প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ ও খুশকি দূর করতে সহায়তা করে। অবশ্যই অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে স্ক্যাল্প স্ক্রাব আমাদের মাথার স্ক্যাল্পকে ভেতর থেকে এক্সফোলিয়েট করে, গ্রিসিনেস দূর এবং স্ক্যাল্পের ইচিনেস কমাবে। এ প্রসাধন ব্যবহার করার পর চুলের ময়েশ্চার রিস্টোর করতে ভালো মানের কন্ডিশনার ও হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

দ্বিতীয় ধাপ : রিপেয়ারিং

যাদের চুল ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে, তারা হেয়ার সাইক্লিংয়ের দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ দ্বিতীয়বার চুল পরিষ্কারের সময় ড্যামেজড হেয়ার রিপেয়ার করে এমন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বেছে নিন। ড্যামেজ রিপেয়ারিং হেয়ার কেয়ার প্রসাধন কিনে ব্যবহার করুন। চাইলে হেয়ার ওয়াশের পর হেয়ার সিরামও ব্যবহার করতে পারেন।

তৃতীয় ধাপ : স্টাইলিংয়ের প্রস্তুতি

হেয়ার সাইক্লিংয়ের শেষ ধাপে এমন প্রসাধন ব্যবহার করতে হবে যেগুলো আপনাদের অনেক ভালো ফল দেবে। এই ধাপে নিজেদের চুলের অবস্থা ও গুরুত্ব বুঝে প্রসাধন বাছাই করতে হবে, যাতে করে হেয়ার স্টাইলিং করার সময় কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়। যেমন ধরুন, যদি আপনার খুশকির সমস্যা আছে, তাহলে অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। সেই সঙ্গে যদি কন্ডিশনার ব্যবহার করেন, তাহলে চুল সিল্কি হবে, আবার স্টাইলিং করতেও সহজ হবে।