শিশুর না বলার অভ্যাস

অনেক মায়ের অভিযোগ যে তার সন্তান সব কথাতেই না বলে। প্যান্ট পরিবর্তনে না, খাওয়াতে না, ঘুমাতে নিলে না এভাবে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুটি না বলছে তার মাকে। অনেক মা আছেন যে এ কারণে শুধু ক্লান্ত নন কিছুটা বিরক্ত ও হতাশ।  দুশ্চিন্তায়ও ভোগেন ‘এখনই এত না বললে বড় হলে মানুষ করব কীভাবে?’

একটি শিশু যখন বড় হতে থাকে তখন সে নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চায়। ২ থেকে ৩ বছরের শিশুরাও তার ব্যতিক্রম নয়। এ সময় শিশুরা অনেক কিছুই করতে পারে না তবুও তারা অনেক কিছু নিজের স্বাধীনতায় করতে চায়। নিজের স্বাধিকার প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজে উপায় হচ্ছে না বলা। তাই শিশুরা না বলা শুরু করে। শুধু তাই নয়, সে দেখে প্রায় সব বড়রা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে না বলে নিজের ‘আধিপত্য’ বজায় রাখছে। তাই নিজের অস্তিত্বের জানান দিতে না বলে। তবে না বলার মধ্যে সাপে বর আছে। না বলার মাধ্যমে শিশুটি স্বনির্ভরশীল হতে চায় ও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। নিচের কৌশলগুলো ব্যবহার করে শিশুর না বলা বিষয়টি সুন্দর করে সামলানো যায়।

না বলা স্বাভাবিক

শিশুর না বলাকে মোকাবিলা করতে হলে প্রথমেই নিজের মনকে বলতে হবে ২-৩ বছর বয়সী শিশুরা না বলতেই পারে। এটি তাদের বিকাশের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ক্ষুধা, অসুস্থতা, নতুন পরিবেশ বা অন্য কোনো কারণে শিশু অস্বস্তি অনুভব করলে শিশু বেশি বেশি না বলতে পারে। তাই শিশুর না বলাকে স্বাভাবিক ধরে নিয়ে নিজে অধৈর্য হওয়া যাবে না এবং বেশি না বললে তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে।

ইতিবাচক শব্দের ব্যবহার করুন

শিশুকে বারবার না বললে শিশুও বেশি বেশি না বলে। তাই শিশুর সঙ্গে কথোপকথনে সাবধানী হোন। না শব্দটি যতটা সম্ভব পরিহার করে ইতিবাচক বাক্য ব্যবহার করুন। যেমন: শিশুকে রৌদ্রে যেতে না করতে হলে বলুন- ‘আম্মু রৌদ্রে গেলে শরীর কালো হয়ে যাবে যে, চলো ভেতরে যাই।’

কারণ পরিষ্কার করে বলুন

শিশুকে কোনো অনুরোধ করলে তার কারণটি পরিষ্কার এবং তার বোধগম্য করে উপস্থাপন করুন।

সিদ্ধান্ত নিতে দিন

আমরা বড়রা হয়তো ভালো বুঝি শিশুর জন্য কী দরকার এবং কী দরকার নেই। তবু শিশুর ওপর সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে শিশুকে কয়েকটি বিকল্প বলে দিয়ে তার মধ্য থেকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যেমন: ‘বাবু, তুমি এখন নুডলস খাবে নাকি ব্রেড খাবে?’ অনেক সময় থাকে যে শিশুর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিলে চলে না। তখনো আপনি আপনার সব সিদ্ধান্ত কম বয়সী শিশুর কাছ থেকে নিতে পারেন।  যেমন: এখন টিভি বন্ধ করবে নাকি এই গানটা শেষ হলে বন্ধ করবে? এখন গাড়ি থেকে নামবে নাকি দুই মিনিট খেলে তারপর নামবে? সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন সিদ্ধান্তটি হবে টিভি বন্ধ করা বা গাড়ি থেকে নামা। এভাবে প্রায় সব সিদ্ধান্তই শিশুর মাধ্যমে নিলে শিশুর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করার অনুভূতি আসবে এবং তা ‘না’ বলার প্রবণতাকে কমিয়ে দেবে।

অনুকরণ করতে উৎসাহ দিন

শিশু অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই অনেক কাজ যেগুলোতে শিশু না বলতে পারে সেগুলো তাকে অনুকরণ করতে উৎসাহিত করতে পারেন। যেমন: একটি শিশু গোসলের পর ক্রিম বা লোশন দিতে চায় না। তখন তাকে মজা করে বলা যেতে পারে ‘আমি  গোসল  করেছি আমি এখন লোশন দেব। তুমি গোসল করেছ? চলো আমরা একসঙ্গে লোশন মাখি।’

না কে হাসিতে পরিণত করুন

শিশুর না-এর সঙ্গে যুদ্ধ না করে হাসিতে পরিণত করুন। বিষয়টি নিয়ে চোখেমুখে দুষ্টুমির ভাব এনে শিশুর সঙ্গে মজা করুন ও শিশুকে হাসির মধ্যে রাখুন।

সহমর্মিতা প্রকাশ করুন

শিশুর প্রতি আপনার স্বভাবজাত সহমর্মিতাকে প্রকাশ করুন। তাকে বলতে পারেন ‘আমি বুঝতে পারছি বাবা তোমার খেলা ছেড়ে যেতে একদম ইচ্ছে করছে না। আরও অনেক খেলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তুমি এখন গোসলে না গেলে ঘুমের সময় গল্প শুনবে কীভাবে?’

সুন্দর করে বলতে শেখান

শিশুর না বলার একটি বড় কারণ হলো শিশুর শব্দভা-ার খুব কম। সে সুন্দর করে নিজের মতামত প্রকাশ করতে না পেরে ‘না’ বলে। এ কারণে শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় সুন্দর করে কথা বলুন এবং তাকেও শেখান কীভাবে সুন্দর করে মত প্রকাশ করতে হয়। অনেক সময় শিশুরা যেখানে হ্যাঁ বলতে চায় সেখানেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে না বলে। তাই মূল কথা বলার আগে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলুন সেখানে শিশু হ্যাঁ বলবে।

ভালো আচরণকে পুরস্কৃত করুন

শিশুর মধ্যে ভালো আচরণ বৃদ্ধি পেলে শিশুর নেতিবাচক অনেক অভ্যাস কমে যায়। তাই শিশুর ভালো আচরণকে পুরস্কৃত করুন।