চুড়ি

হাতের বালা বা চুড়ির ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নারীর অলংকারচর্চার সঙ্গে এর সম্পর্ক সুদীর্ঘ। খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকেই বালা ব্যবহারের প্রচলন ছিল। পাকিস্তানের মহেঞ্জোদারো খননকার্যে পাওয়া বিখ্যাত ‘নৃত্যরত তরুণী’র ব্রোঞ্জমূর্তির বাম হাতে একাধিক চুড়ি দেখা যায়। যা চুড়ির ইতিহাসে প্রাচীনতম প্রমাণ।

প্রাচীনকালে সমুদ্রের খোল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা, অ্যাগেট ও চালসেডনির মতো উপাদান দিয়ে বালা তৈরি করা হতো। মহারাষ্ট্রের মহুরঝাড়ি থেকে তামার চুড়ি এবং মৌর্য যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-১৮৫) পোড়ামাটি, হাতির দাঁত ও খোদাই করা খোলের চুড়ির নিদর্শন পাওয়া গেছে। তক্ষশীলার প্রতœস্থল থেকেও সোনার চুড়ি আবিষ্কৃত হয়েছে, যা সে সময়ের উন্নত কারুশিল্পের সাক্ষ্য বহন করে।

মুঘল আমলে বালার নকশা ও অলংকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়। রতœখচিত, মিনাকারি করা সোনার বালা রাজপরিবার ও অভিজাতদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলায় বিবাহিত নারীদের শাখা-পলা ও সোনার বালা পরার ঐতিহ্য চলমান। অঞ্চলভেদে মকরমুখী বালা, লাক্ষার চুড়ি কিংবা হাতির দাঁতের বালার মতো বৈচিত্র্যময় নকশা রয়েছে। শুধু অলংকার হিসেবেই নয়, বালা বহু যুগ ধরে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আজও এর ঐতিহ্য ও আবেদন সমানভাবে অটুট রয়েছে।