বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) এর সদস্যরা গত ০৭ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের অন্তত ১০টি পুশইন অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)- এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমানের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় জানানো হয়, গত ০৭ জুন আনুমানিক রাত ৮টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাধীন খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারত থেকে তারকাঁটার পকেট গেইট ব্যবহার করে ১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। সংবাদ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি টহল দল এবং স্থানীয় জনগণ ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরদিন ০৮ জুন আনুমানিক সকাল ৯টা ৪৫ এর দিকে খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১০-১২ জন ব্যক্তিকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি টহলদল ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থান এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে গত ০৮ জুন রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাধীন পাথরেরচর ও বাঘারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায় ১৮ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ উদ্দেশে ভারতের অভ্যন্তরে লুকাইয়েরচর এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়ো করা হয়। ওই এলাকায় বিজিবির বিশেষ সতর্কতা, নজরদারি ও টহল জোরদারের ফলে সেগুলো কার্যকরভাবে প্রতিহত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (০৯ জুন) আনুমানিক রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, মোল্লারচর, ইজলামারী ও খেয়ারচর বিওপি এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরেরচর, বাঘারচর ও ঝাউডাঙ্গা বিওপি এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার সাতানীপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক সমন্বিতভাবে একাধিক পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে থ্রি-টন ট্রাকযোগে ও দলবদ্ধভাবে লোকজনকে সীমান্তে নিয়ে আসে।
কয়েকটি স্থানে পুশইনের সুবিধার্থে সীমান্ত এলাকার আলোকসজ্জা (লাইট) বন্ধ করে দেওয়া হয়। দাঁতভাঙ্গা সীমান্তে ৮-১০ জন, মোল্লারচর সীমান্তে ১০-১২ জন, ইজলামারী সীমান্তে ১২-১৩ জন, খেয়ারচর সীমান্তে ২৫-৩০ জন, পাথরেরচর সীমান্তে ১৮-২০ জন, বাঘারচর সীমান্তে ৭-৮ জন, ঝাউডাঙ্গা সীমান্তে ৮-১০ জন এবং সাতানীপাড়া সীমান্তে ৭-৮ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
বিজিবির টহলদল ও স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং দৃঢ় অবস্থান নেয়। ফলে বিএসএফের সকল পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে জামালপুর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বিজিবির কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, নিবিড় টহল এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কারণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
বার্তায় বিজিবি আরও জানায়, বিজিবি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চায় যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।