গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিতকরণে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র দলীয় ও গোষ্ঠীগত দুরভিসন্ধিই ছিল প্রধান প্রবণতা। ফলে একদিকে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হস্তগত হয়েছে এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যর্থতাগুলো ঢাকা হয়েছে মিথ্যা পরিসংখ্যান ও কথার ফুলঝুরি দিয়ে। অর্থনৈতিক ইঞ্জিন গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই দুর্বল হতে হতে একেবারে ধ্বংস হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন যাত্রার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
নতুন অর্থবছরে বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বাজেটের আকারের তুলনায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা কম বা ঘাটতি। এই ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চান বলে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাপক পরিকল্পনা সাজালেও বিদ্যমান উচ্চমূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণ ও বাজেট ঘাটতির সংস্থান বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে, যার ফলে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে দেখা দেবে স্থবিরতা, যা লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তবে বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্ক ও করের ক্ষেত্রে বেশকিছু সুবিধা রাখা হলেও রাজস্ব আয় বাড়াতে কৌশলী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যেসব জিনিস ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার, যার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে মূল্য সংযোজন কর-মূসক জালের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাংক, এনবিএফআই বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে মার্চেন্ট হিসাব খোলা, ট্রেড বডির সদস্যপদ গ্রহণ-নবায়ন, প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়া ও বিআরটিএ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহনের নিবন্ধনে ভ্যাট নিবন্ধিত হতে হবে।
অন্যদিকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করা বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেছে সরকার, যা সচেতনমহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কালো টাকা বৈধ করার অসাংবিধানিক, দুর্নীতিসহায়ক ও বৈষম্যমূলক সুযোগ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে আইনগত সুরক্ষা ও বিচারহীনতা দেওয়ার শামিল। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ জাতীয় দুর্নীতিসহায়ক সুযোগ প্রদান সরকারের জন্য আত্মঘাতী, যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করারই নামান্তর। এই সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’
এদিকে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে এবারের বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট কাঠামো প্রণয়ন করেছেন।
রজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তাই রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও করদাতাবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায় সহজ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান নিশ্চিতের লক্ষ্যে এ চালান ব্যবস্থা আগামী ১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি বলেন, কর অব্যাহতি কমিয়ে আনা, রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, বিদ্যমান ভ্যাট আদায় ও কাঠামো যৌক্তিকীকরণসহ স্বল্পমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে কর আহরণের পরিমাণ এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) আয় বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর-বহির্ভূত রাজস্ব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত কর রাজস্ব সংগ্রহ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নীতিমালার আওতায় সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ কর্তৃক এনটিআর উৎস চিহ্নিতকরণ, যুক্তিসংগত ফি নির্ধারণ, প্রতি ৩ বছর অন্তর রেইট যৌক্তিকীকরণ বা হালনাগাদকরণ এবং নতুন রাজস্ব উৎস অনুসন্ধান করা হবে। এ ছাড়া ডিজিটালাইজেশন, এ চালানের ব্যবহার এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। যুক্তিসংগত ফি নির্ধারণের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগের বিভিন্ন সেবার প্রায় ৪৯৩টি রেট হালনাগাদ করা হয়েছে।
বাজেট পর্যালোচনায় দেখে গেছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। এদিকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণপ্রবাহের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবারের বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। তবে চলতি বছরের মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যেজন্য শুধু বড় বাজেট ও বড় এডিপি নয় বরং আকারকে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর ব্যবস্থাপনায় উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর, ৫ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় প্রশংসনীয়। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। ক্যাশলেস লেনদেনে পিওএস মেশিন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও আগাম কর শূন্য করা যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক এবং করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দকে স্বাগত জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে বলে মনে করে এসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের মুখপাত্র ঢাকা চেম্বার।
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্প, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাট এবং সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি এবং দেশীয় ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অর্থমন্ত্রী ইলেকট্রিক ভিহিকেল (ইভি)-তে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি, নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর হ্রাস এবং চার্জিং নেটওয়ার্ক আমদানিতে কর শূন্য করার প্রস্তাব করেছেন। তবে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম।
সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি মস্ত বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না, এর বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে যত পরিকল্পনাই করা হোক, ব্যর্থ হতে হবে। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য তা অবাস্তব পরিকল্পনা। পাশাপাশি ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকনির্ভরতা মূল্যস্ফীতি ও সুদ হারকে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া বিদেশি ঋণের যে আশা করা হচ্ছে, সেখান থেকে ৮০ বা ৯০ হাজার কোটি টাকাও যদি পাওয়া যায়, তাহলে বলতে হবে সরকার ভালো করেছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না বাজেট খুব বড়। সমস্যা আকারে নয়, বরং সমস্যা হচ্ছে এর বাস্তবায়নের সক্ষমতায়। সম্পদ বা রাজস্ব আহরণের সক্ষমতায়। কারণ, ব্যয়ের বিপরীতে আয় কম হলে সরকারের চাপে থাকবে এবং আয় বৃদ্ধি না হলে ঋণের ঝুঁকি বাড়বে। ফলে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আহরণ বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘বাজেট এমন হওয়া প্রয়োজন, যা একদিকে অর্থনীতির বর্তমান চাপ মোকাবিলা করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।’
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার এরই মধ্যে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাবান বাংলাদেশের ভিত রচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই বাজেটে তার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোকেই আমরা প্রতিফলিত করেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই বাজেট উন্নয়নকে বৈষম্যহীন, কর্মসংস্থানকে নিরাপদ ও শোভন, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতামূলক এবং সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের উন্নয়নের অভিযাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের নীতি-পরিকল্পনা হিসেবে কাজ করবে।