প্রবাসী কার্ড

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা নিতে পারবেন। একইসঙ্গে বৈধপথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল থাকবে। গতকাল জাতীয় বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবা এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হবে। তিনি বলেন, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া এবং নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড। এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। সরকার আশা করছে, সামনের দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রবাস আয় আরও বাড়াতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের উৎসাহিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে বৈধ পথকে আরও আকর্ষণীয় করতে সরকার এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

প্রবাসীদের জন্য হবে ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’: অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রধান দেশের দূতাবাসগুলোতে বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টার জেলে থাকা, নিগৃহীত বা প্রতারিত কর্মীদের উদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। তাছাড়া দেশে ফেরত প্রবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে। ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের’ মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করা হয়েছে। দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আরও ৫০টি উপজেলায় নতুন ৫০টি টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনকে দক্ষ ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান অব্যাহত থাকবে এবং এ কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত