মন্ত্রীর হাতে ছিল কালো ব্রিফকেস

দুই দশক পরে দেশের ইতিহাসের বৃহৎ বাজেট উপস্থাপন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে কালো রঙের ছোট ব্রিফকেস নিয়ে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ। এ সময় টেবিল চাপড়িয়ে স্বাগত জানান সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় নেভি ব্লু কালারের স্যুট ও নীল রঙের টাই পরিহিত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই সময়ে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশে একটি আসন পরেই নিজের আসনে বসেন অর্থমন্ত্রী। কিছুক্ষণ পরেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয় অধিবেশন। শুরুতেই বাজেট উপস্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করেন অর্থমন্ত্রী। এরপরেই উপস্থাপন শুরু করেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট।

এর আগে সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে স্বাক্ষর করেন। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদে তার অফিস কক্ষে তিনি এ স্বাক্ষর করেন। এর আগে দুপুরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের আগে জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে স্বাক্ষর করেন। বাজেট উপস্থাপনকালে অধিবেশন কক্ষ ও সংসদের প্রতিটি গ্যালারিতে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, সরকারের উপদেষ্টা, গণমাধ্যমের সম্পাদক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনেরা।

বিকেল ৩টায় বাজেট উপস্থান শুরু হয়। শেষ হয় ৮টায়।  প্রায় ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে আসর ও মাগরিবের নামাজের জন্য ৩০ মিনিট করে দুইবার বিরতি দেওয়া হয়েছিল। বাকি সময় দাঁড়িয়ে পুরো বাজেট উপস্থান করেন অর্থমন্ত্রী। পরে অধিবেশন আগামী রবিবার ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। সেদিন থেকেই প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।