প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ কক্সবাজার আসছেন। তার সফর উপলক্ষে জেলাজুড়ে নিিদ্র নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে তার আগমন ঘিরে চাওয়া, পাওয়া আর প্রত্যাশার হিসাব খুলে বসেছেন জেলাবাসী। প্রায় অর্ধশতাধিক দাবি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে ব্যানার। স্থানীয়রা মনে করছেন, তারেক রহমানের হাত ধরেই পূরণ হবে জেলার সব প্রত্যাশা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সড়ক সংস্কার, রাস্তার দুই ধারের ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল ধরপাকড়সহ ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সফল করতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষে দফায় দফায় প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী আজ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক অনুষ্ঠান এবং জনসভায় অংশ নেবেন। সকাল ৮টায় ঢাকার বাসভবন থেকে রওনা হয়ে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন। এরপর তিনি প্রথমে পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পথসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর চকরিয়ার ডুলহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং পার্ক পরিদর্শন করবেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত মাতারবাড়ী উপজেলা এবং পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক বিভাগের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে চকরিয়ায় আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শনের পর রাত ৮টায় লবণ ফেস্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে বিমানযোগে যাত্রা করবেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কক্সবাজার সফর। এর আগে তিনি ৫ বার কক্সবাজার এসেছেন। প্রথমবার এসেছিলেন ১৯৮৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। ১৯৯৭ সালে পারিবারিক সফরে দুদিন কক্সবাজার অবস্থান করেন। পরে ২০০৩ সালে জেলা বিএনপি সম্মেলন ও কাউন্সিলে যোগদান করেন, ২০০৫ সালে কক্সবাজার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃণমূল বিএনপির প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন এবং ২০০৬ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মিলনমেলায় যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, কক্সবাজার শহরকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী এবং সিটি করপোরেশন ঘোষণা, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল নির্মাণ। এ ছাড়া কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার থেকে মহেশখালী পর্যন্ত সেতু নির্মাণ, পিএমখালীর পাতলী খালকে শহীদ জিয়া স্মৃতি খাল হিসেবে নামকরণ, কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণসহ অর্ধশত দাবি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী বলেন, ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে বিশ্ব পর্যটনের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা, বাঁকখালী নদীতে ড্রেজিং, সোনাদিয়া দ্বীপকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন হিসেবে গড়ে তোলা এবং মহেশখালী-মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের এসব যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে বলে জেলাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। স্থানীয়রা নানা সীমাবদ্ধতা ও চাপের মধ্যে মানবিক দায়িত্ব পালন করে এলেও এই সংকটের একটি দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলাবাসী।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের কক্সবাজারের পেকুয়া, চকরিয়া ও মাতামুহুরি সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেসব স্থানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি রয়েছে গতকাল শুক্রবার সেসব স্থান পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল মাঠে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।