রাজধানীর ওয়ারী থানা এলাকায় ডিবি পরিচয়ে সংঘটিত ৫৭ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডাকাত চক্রের আরও ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে কিশোরগঞ্জ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. মোবারক হোসেন ওরফে শাওন (৩০) মো. রুবেল (৩৮), ও আব্দুল্লাহ আল হাসান ওরফে সাকিব ওরফে অজয় (২৮)।
ওয়ারী থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ওয়ারী থানাধীন নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড়ে সোনা ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের গতিরোধ করে। ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য রয়েছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। পরে চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তকালে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় ইত্তেফাক মোড় এলাকায় পুনরায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির ৬ সদস্যকে আটক করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের কটি, খেলনা পিস্তল, ওয়াকি-টকি সেট, হ্যান্ডকাফ, লাঠি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও তাতীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত আরও ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৫৭ ভরি সোনার মধ্যে ১৭ ভরি গলানো সোনা, সোনা বিক্রির ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ ঘটনায় জড়িত রুবেল, মোবারক ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার তিন সদস্যকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।