মনিরামপুরে আশ্রয়ণের ঘর এখন মাদকসেবীদের আড্ডা

দেড় বছর ধরে অরক্ষিত, অব্যবহৃত ও মালিকানাবিহীন ভূমিহীনদের জন্য তৈরী করা ঘর পড়ে রয়েছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নে। ফলে বর্তমানে তা মাদকসেবীদের নিরাপদ বিচরণ ও আড্ডায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরসকাঠি ও বাগডোব এলাকায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ৯টি আশ্রয়ণ ঘর দেড় বছর অরক্ষিত। নির্মাণকাজ শেষ হয়ে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ দেওয়া হলেও তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের কাছে এখনও ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে খালি পড়ে থাকা ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা ও নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে সরসকাঠি ও বাগডোব এলাকায় সরকারি খাসজমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরীর জন্য সরসকাঠি মৌজায় সাতটি এবং বাগডোব মৌজায় দুটি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ঘরগুলো উপকারভোগীদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের আগে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং তা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তালিকায় সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা অন্যের জমিতে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদেরকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।

সরসকাঠি চটপটি মোড় এলাকায় দুই সারিতে যে ঘর তৈরী করা হয়েছে সেখানে সাতটি ঘরের মধ্যে চার ঘরে তালা নেই। ঘরগুলোর নোংরা ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে আছে। সেখানে মাদকের সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

প্রকল্পের তালিকাভুক্ত কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদের বলেন, ‘সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করিলাম আর শুনিছি আমার নামে একটি ঘর বানানো হয়েছে। কিন্তু অনেকবার ভূমি অফিসি যাইয়েও এখনো ঘর বুঝে পাইনি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের শেষ দিকে ঘরগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রায় ছয় মাস আগে বিদ্যুতের মিটারও বসানো হয়েছে। কিন্তু এখনও উপকারভোগীদের কাছে ঘর হস্তান্তর না করায় সেখানে কেউ থাকে না, তাই  সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ঘরগুলোর পরিবেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী।’

রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ‘এ ইউনিয়নে সরসকাঠিতে সাতটি এবং বাগডোব এলাকায় দুটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বারো জন ভূমিহীনের তালিকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। আশ্রয়ণ ঘরে মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’ 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান বলেন, ‘সরসকাঠি ও বাগডোব এলাকার আশ্রয়ণ ঘরগুলোর বন্দোবস্ত ও উপকারভোগীর নিকট বুঝে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ 

এ বিষয়য়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণের ঘরগুলো যাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে, আগামী সপ্তাহে তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’