মণিরামপুরে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ নিয়ে তোলপাড়

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় বাবার চেয়ে বয়সে বড় একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে ছেলের ভুয়া সনদ নিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে ছেলে যাকে বাবা হিসেবে দাবি করে সনদ নিয়েছেন তিনি আদৌ তার সন্তান নন বলে দাবি করছে একটি পক্ষ।

ওই বাবার চার ছেলে-মেয়ে থাকলেও পৌরসভার সচিব স্বাক্ষরিত একমাত্র ওয়ারিশ দাবি করা কেয়ামদ্দিনের ছেলে মহোর মোল্যা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে ৩ একর ১৭ শতক জমি নামপত্তন করতে আবেদন করেন। যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। প্রায় একই সময় শাহাবুদ্দিন নামের একজন একই খতিয়ান থেকে তার কেনা ১০ শতক জমির নামপত্তনের আবেদন করলে এই অনিয়ম-দুর্নীতি বেরিয়ে আসে।

এদিকে পৌরসভার সচিব তফিকুল আলম দাবি করেন, তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ওয়ারিশ সনদ বানানো হয়েছে।

তবে ওয়ারিশ সনদধারিদের দাবি, তারা যথাযথ নিয়মে আবেদন করেই পৌরসভা থেকে এই সনদ নিয়েছেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ৮৬ বছর পর পৌরসভা থেকে মৃত্যু প্রত্যায়ন পাওয়ায় অনেকেই ঘটনাটি সন্দেহের চোখে দেখছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ মে পৌরসভা থেকে কেয়ামদ্দিনের নামে একটি মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়। যার বাবার নাম দেখানো হয়েছে মৃত হোসেন আলী মোল্যা। যিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালপুরের বাসিন্দা। সনদ নম্বর ১৩৭৬৯৬১৩৯২৫ এবং মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ১৯৪০৪১২৬৭৭৮০৫০৭২৬। এতে কেয়ামদ্দিনের মৃত্যু দেখানো হয়েছে ১৯৪০ সালের ১০ মে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একই ওয়ার্ডের (কামালপুর) মৃত হোসেন আলীর মোল্যার কেয়ামদ্দিন নামে কোন সন্তান নেই। তার চার ছেলে-মেয়ের সবাই জীবিত রয়েছেন। মৃত হোসেন আলী মোল্যার প্রকৃত জন্ম ও মৃত্যু সনদ অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯২১ সালের ১২ মার্চ এবং মৃত্যুর তারিখ ২০০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে মহোর আলী মোল্যার আদেনকৃত ওয়ারিশ সনদে কেয়ামদ্দিন ১৩৬ বছর বয়সে ১৯৪০ সালের ১০ মে মৃত্যুবরণ করেন বলে দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে সন্তানের চেয়ে বাবার বয়স কম।

কেয়ামদ্দিন মৃত হোসেন আলীর একমাত্র ওয়ারিশ দাবিকৃত সনদ নিয়ে কেয়ামদ্দিনের ছেলে মহোর মোল্যা ৯৯ নম্বর কামালপুর মৌজায় ৩১৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সর্বমোট ১৫টি দাগের মৃত হোসেন আলীর তিন একর ১৭ শতক জমি নামপত্তন করতে দিলে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

মৃত হোসেন আলীর ছেলে তোফায়েল আহম্মেদ জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কেয়ামদ্দিন মারা গেলে তার সন্তানরা ভিটেমাটি বিক্রি করে অন্যত্রে চলে যান। তাদের বংশের কেউ না হলেও একামত্র ওয়ারিশ হিসেবে কেয়ামদ্দিন সনদ পাওয়ায় তারা হতবাক হয়েছেন।

তিনি জানান, তার বাবা জীবিত থাকাকালে মাস্টার শাহাবুদ্দিনের কাছে একই ৩১৮ খতিয়ান হতে ১০ শতক জমি বিক্রি করেন। সম্প্রতি শাহাবুদ্দিনের ক্রয়কৃত জমি নামপত্তন করতে গেলে এই জাল-জালিয়াতি জানতে পারেন।

এব্যাপারে নামপত্তন করতে দেওয়া কাগজপত্রে মহোর মোল্যার মোবাইলে ফোন দিলে তার নাতি শামীম হোসেন রিসিভ করেন। তিনি জানান, সব নিয়ম মেনেই পৌরসভা থেকে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে জমি নামপত্তন করতে আবেদন করেন তার দাদা মহোর মোল্যা।

অভিযুক্ত পৌরসভার সচিব তফিকুল আলম জানান, মৃত্যুর প্রত্যয়ন সনদ দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাদেরকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়নি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত