শেরপুর

ক্রীড়াসেবী ভাতায় অনিয়মের অভিযোগ, সুবিধা পেলেন সচ্ছলরা

শেরপুরে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বরাদ্দকৃত ক্রীড়া ভাতা অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ক্রীড়াসেবীদের না দিয়ে ক্রীড়া সংস্থার কর্মচারী এবং সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দায় নিতে রাজি নয় জেলা ক্রীড়া অফিস। 

জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ক্রীড়াসেবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জাতীয় ক্রীড়া ভাতা প্রদানের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শেরপুর জেলা থেকে এ ক্যাটাগরিতে ৪৮ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৩ জনকে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াসেবীদের অভিযোগ, শেরপুর জেলায় প্রকৃত অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ব্যক্তিদের নাম এই তালিকায় নেই। যাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই বিত্তবান এবং অনেকেই খেলোয়াড় নন। আবার কেউ কেউ জেলা ক্রীড়া সংস্থার বেতনভুক্ত কর্মচারী।

ফুটবলার মুর্শেদ বলেন, ‘আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে খেলাধুলা করি, তাদের মধ্যে অনেক গরিব ও দুস্থ খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু ভাতার বিষয়ে আমাদের অবগত করা হয়নি।’

সাবেক খেলোয়াড় ও ফুটবল কোচ সাধন বশাক বলেন, ‘শেরপুরে ক্রীড়াসেবীদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের ইশারায় নামের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে প্রকৃত খেলোয়াড়রা উপকৃত ও অনুপ্রাণিত হতো।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক অ্যাডহক কমিটির সদস্য শওকত হোসেন বলেন, ‘সচ্ছল, বিত্তবান, ক্রীড়া সংস্থার বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং অনেকেই পেশাদার খেলোয়াড় নন—এমন ব্যক্তিদের ভাতার জন্য নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।’

শেরপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ধীরেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘অনলাইনে সবাই আবেদন করেছেন। সবার আবেদনই ঢাকায় পাঠিয়েছি। যাচাই-বাছাই কমিটিতে যারা ছিলেন, তারা বলতে পারবেন কেন তাদের নাম এসেছে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। আগে যিনি ছিলেন, তাঁর সময় এটি হয়েছে। আমি অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ কিছু খেলোয়াড়কে আমার কার্যালয়ে ডেকে নামের তালিকা চেয়েছি। ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বরাদ্দকৃত ক্রীড়া ভাতা যেন প্রকৃত অসচ্ছল, অসুস্থ, আহত ও অসমর্থ ক্রীড়াসেবীরা পান, সে বিষয়ে কাজ করছি।’