ডাক্তারকে ‘ম্যাডাম-স্যার’ না বললেই পোহাতে হয় ভোগান্তি!

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধন না করলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধনের বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতাই নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও টানানো হয়েছে লিখিত নির্দেশনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।’ চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। 

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধন না করলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ সম্বোধনের বিষয়ে শুধু মৌখিক সতর্কতাই নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দরজাতেও টানানো হয়েছে লিখিত নির্দেশনা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কোনো মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম-স্যার ছাড়া অন্য কিছু ডাকবেন না।’

চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। নারীদের আপা আর পুরুষদের ভাই বলেই অভ্যস্ত। এখানে ডাক্তারদের ভাই বা আপা বললে তারা রেগে যান। একারণে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আঞ্চলিক ভাষা ও প্রচলিত সামাজিক রীতি অনুযায়ী তারা চিকিৎসকদের ভাই-আপা বলে সম্বোধন করেন। এতে চিকিৎসকদের অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না বলেও জানান তারা।

তবে জরুরি বিভাগের সামনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ ছাড়া অন্য কোনো সম্বোধন না করার নির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। রোগী ও স্বজনের মতে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এবিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ‘ম্যাডাম-স্যার’ বলতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জরুরি বিভাগের দরজায় টানানো নির্দেশনাটির বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটি অপসারণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত