পাইকারিতেও দাম কমছে বিদ্যুতের

খুচরার পর এবার পাইকারি বিদ্যুতের দামও কমাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী বৃহস্পতিবার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত আদেশ দিতে পারে। তবে পাইকারি বিদ্যুতের দাম কতটা কমানো হবে, তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি কমিশন।

গত ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও গ্রাহকপর্যায়ে খুচরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আদেশ দেয়। এর ঠিক এক দিন পর বিইআরসি দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সংশোধন করে শূন্য থেকে ৫০ এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট এ দুই ধাপে আগের দাম বহাল রাখে।

এতে করে গত ৩ জুন বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ২৩ পয়সা কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। এর ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোর রাজস্ব আদায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা কমবে। এর মধ্যে এককভাবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) রাজস্ব কমবে এক হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। বিইআরসি সূত্র জানায়, আরইবি এরই মধ্যে বিইআরসিকে চিঠি দিয়ে তাদের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। অন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোও তাদের আর্থিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর

জন্য নির্ধারিত গড় পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা থেকে খানিকটা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গতকাল সোমবার বিকেলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কতটা কমানো হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আরইবি তাদের কাছে চিঠি দিয়ে রাজস্ব ঘাটতির কথা জানিয়েছে। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিও একই কথা বলছে। সঙ্গত কারণেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিইআরসি সূত্র বলছে, আগামী বৃহস্পতিবার নতুন আদেশ আসতে পারে। তবে বিষয়টি অনেকটাই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এর আগে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বৃদ্ধির সময় জানানো হয়েছিল, সরকারকে আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। সেই হিসাব ধরেই সরকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। এখন নতুন করে দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা সমন্বয় করা হলে ভর্তুকি বেড়ে ৪৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। অন্যদিকে সরকারকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকার নিচে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে গেলে আইএমএফের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা প্রাপ্তিতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বিষয়টির কী সমাধান করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাজেট পাস হওয়ার আগে বাজেটে কিছু সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।

বিইআরসি সূত্র জানায়, সব বিতরণ কোম্পানিতে ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত মোট সংযোগ রয়েছে এক কোটি ৮৬ লাখ ১৯ হাজার ২৭৬টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত সংযোগ রয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৫টি।

এর মধ্যে পিডিবির ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত আট লাখ ৫৮ হাজার ১৮৩টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত চার লাখ ৮০ হাজার ৩০১টি সংযোগ রয়েছে। আরইবির ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত এক কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৭৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭টি সংযোগ রয়েছে। ডিপিডিসির ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩২৬টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৬২ হাজারটি সংযোগ রয়েছে। ডেসকোতে ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত ৮৮ হাজার ২৭৫টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৫৯টি সংযোগ রয়েছে। ওয়েস্ট জোনে ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৩টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত চার লাখ পাঁচ হাজার ৪৬২টি সংযোগ রয়েছে। নেসকোর ০-৫০ ইউনিট পর্যন্ত সাত লাখ ২৫ হাজার ৫০৮টি এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত পাঁচ লাখ ২০ হাজার ২৮৬টি সংযোগ রয়েছে।