পেটের অস্বস্তির নেপথ্যে আইবিএস

আইবিএস  (IBS – irritable bowel syndrome) হলো পরিপাকতন্ত্রের রোগ। যে রোগ একবার হলে সারা জীবন ভুগতে হয়। তবে নিয়ম মেনে জীবনযাপন এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ।

যেভাবে বুঝবেন

আইবিএস রোগের লক্ষণ সব সময় বোঝা যাবে এমন নয়। কিছুদিন সুস্থ থাকে আবার কিছুদিন পর পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জীবনযাপনে অনিয়ম আবার বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার ফলে এই লক্ষণ দেখা দেয়। কেউ কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা জীবনই ভোগেন। রোগের ধরন ও রোগী ভেদে লক্ষণের তারতম্য হয়। তবে কিছু কিছু লক্ষণ কমন থাকে। যেমন- পেট মোচড়ানো ব্যথা, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হওয়া, মলের সঙ্গে মিউকাস নিঃসরণ, অনিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, মেয়েদের ক্ষেত্রে আইবিএস-এর লক্ষণগুলো পিরিয়ডের সময় বেড়ে যায়। এর ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হতাশা, উদ্বিগ্নতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আইবিএস তিন ধরনের হয়।

IBS-c : c দ্বারা কোষ্ঠকাঠিন্যকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ  IBS-c  এর ক্ষেত্রে  রোগীর মল বেশিরভাগ সময় শক্ত প্রকৃতির হয়। এবং সহজে মলত্যাগ হতে চায় না।

IBS-d  : d  দ্বারা ডায়রিয়া বোঝানো হয়। এই ধরনের আইবিএস-এর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় মলত্যাগের প্রকৃতি ডায়রিয়ার মতো হয়ে থাকে।

IBS-m: m দ্বারা মিশ্র অবস্থাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ মলত্যাগের

প্রকৃতি কখনো ডায়রিয়া আবার একই দিনে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো হয়।

কাদের হয়

যাদের ক্ষেত্রে আইবিএস রোগে আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকি রয়েছে। তারা হলো পঞ্চাশ বছরের কম বয়সী মানুষ। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের ইতিহাস থাকলে, যাদের ঘুমের সমস্যা হয়, অতিরিক্ত অ্যান্টিবোয়েটিক ওষুধ সেবন করেন, পরিবারের কেউ আক্রান্ত থাকলে তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ,উদ্বিগ্নতা ও বিষণœতায় ভুগলেও এই রোগ হতে পারে।

রোগ নির্ণয়

আইবিএস রোগের লক্ষণের সঙ্গে ক্রনিক ডিজিস, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স, কোলন ক্যানসার, সিলিয়াক ডিজিজের মিল রয়েছে। ডাক্তাররা  যে পরীক্ষাগুলো করতে বলেন তাহলো মল পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, ল্যাকটোজ টলারেন্স টেস্ট, পেটের সিটি স্ক্যান, কোলোনস্কোপি।

চিকিৎসা

আইবিএস রোগটি সারিয়ে তোলা যায় এমন কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও মানসিক সমস্যা কমাতে ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্টের কাছে কাউন্সেলিং বা কগনেটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি গ্রহণে উপকার পাওয়া যায়।

খাবার

আইবিএস রোগীদের জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে ফলমূল, সবজি, বাদাম, ওটস, বাদামি চালের ভাত ইত্যাদি। প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম, মাছ, মাংস খেতে হবে। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত তেল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের শাক কম খেতে হবে। গ্লটেন সমৃদ্ধ খাবার খেলে আইবিএস রোগীদের সমস্যা বাড়ে। করণীয়

নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নিতে মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়াম করা। একবারে বেশি খাবার না খেয়ে দিনের মধ্যে কয়েকবারে অল্প অল্প পরিমাণে খাওয়া। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা। ডায়রিয়া হলে খাবার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করা, রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে ফেলতে হবে।