মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে শরীরকে সুস্থ রাখে। কিন্তু নানা কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমতে শুরু করে, যা জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে ডায়ালিসিস। এটি এমন এক চিকিৎসাপদ্ধতি, যা কিডনির কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষের জীবনধারণ ও স্বাভাবিক কর্মকা- বজায় রাখতে ডায়ালিসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কখন ডায়ালিসিস করবেন
বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিডনির কাজ করার ক্ষমতা শতকরা দশ ভাগের নিচে নেমে গেলে ডায়ালিসিস শুরু করা হয়।
কিডনি আক্রান্ত রোগীর যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে, বমি বমি ভাব হবে, পুষ্টির ঘাটতি দেখা যাবে, শরীরে অত্যধিক পানি জমে যেতে শুরু করবে। তখন তার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হবে। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তখন ডায়ালিসিস শুরু করা যেতে পারে।
ডায়ালিসিস কীভাবে হয়
শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূষিত রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়। শিরা দূষিত রক্ত বহন করে নিয়ে যায়। ডায়ালিসিসে এই রক্তকেই শোধন করে। ডায়ালিসিস দুভাবে হয়।
১. ডায়ালিসিসে আমাদের শরীর থেকে রক্ত বের করে পরিশ্রুত করে আবার তা আমাদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হিমোডায়ালিসিস।
২. পেটের মধ্যে নল ঢুকিয়ে তার মধ্য দিয়ে ডায়ালিসিসের সলিউশন দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেটিকে আবার বের করে নেওয়া হয়। একে বলা হয় পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস।
এই দুই পদ্ধতিতেই ভালো ও খারাপ রয়েছে। যেমন, হিমোডায়ালিসিসের জন্য ডায়ালিসিস কেন্দ্রের দরকার পড়ে এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার সেখানে যেতে হবে। কিন্তু পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিসের ক্ষেত্রে বাড়িতে বসেই করা সম্ভব হয়।
রোগীর অবস্থা বুঝে সাধারণত সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। প্রতি বার প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা করে সময় লাগে।