বাঁশখালীতে মাদকাসক্ত যুবককে কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়নে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাতভর মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে রামদাস মুন্সির হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।

অভিযানে সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও নয়াদিঘীর পাড় এলাকায় মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. কামাল উদ্দিন (৪৪)-কে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত কামাল উদ্দিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযানের সময় দেখা যায়, তিনি নিজের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বিধবা মাকে মারধর করে বিছানা থেকে ফেলে মাটির মেঝেতে রেখে দিয়েছেন। একই সঙ্গে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের মেয়ের সঙ্গেও অপ্রীতিকর আচরণ করেছেন। বাবার এমন নির্যাতন ও আতঙ্কের কারণে মাতৃহীনা মেয়েটির স্বাভাবিক জীবন ও লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালে কামাল উদ্দিনের বৃদ্ধা মা ও মেয়ে তার নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় তার বসতঘরে মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামতও পাওয়া যায়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে সংশ্লিষ্ট আইনে ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন মোবাইল কোর্ট।

এদিকে একই রাতে পুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনায়েম শাহ বাজার এলাকায় ক্যারম খেলার আড়ালে সারারাত জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জুয়াড়িরা দুটি ক্যারম বোর্ড ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা দুটি ক্যারম বোর্ড ভেঙে বিনষ্ট করা হয়।

এ ছাড়া বাজার এলাকায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখল করে একটি পানের দোকান স্থাপন করে সেখানে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগের ভিত্তিতেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মাদক সেবন বা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় কাউকে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বরুমচরা এলাকার মুবিনুল হক কর্তৃক অবৈধভাবে স্থাপিত পানের দোকানটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক, জুয়া এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।