বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্বফুটবল। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে ফিফা। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের তীব্র আইনি চাপ কাজ করেছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচে নিজের তৃতীয় গোল করার পর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বুটের আঘাত করার কারণে ভিএআর রিভিউ শেষে লাল কার্ড দেখেন ২৫ বছর বয়সী বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরাসরি ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বালোগুনের লাল কার্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ‘অনুরোধ’ জানান। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক এবং হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি দ্রুত আইনজীবীদের নিয়োগ করে মার্কিন সকার ফেডারেশনের জন্য একটি বিশেষ আইনি খসড়া তৈরি করে দেন।

মার্কিন সকারের এক শীর্ষ দাতা ও হেজ ফান্ড ম্যানেজার স্কট গুডউইন ট্রাম্প প্রশাসনকে জানান যে, ওই ম্যাচের ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের বিরুদ্ধে অতীতে ব্রাজিলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও ফিফা বা ব্রাজিলিয়ান কর্র্তৃপক্ষ ক্লাউসের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের প্রমাণ পায়নি, তবে ট্রাম্প ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনালাপে এ অভিযোগের বিষয়টিও তোলেন এবং দাবি করেন রেফারি স্লো-মোশন রিপ্লে দেখে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

লাল কার্ডটি সম্পূর্ণ বাতিল না করলেও ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বালোগুনকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আগামী এক বছরের জন্য স্থগিত করা হলো। এই প্রবেশনাল সময়ের মধ্যে বালোগুন যদি একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করেন, তবে এই স্থগিতাদেশ বাতিল করে শাস্তি কার্যকর করা হবে।’

রবিবার এ সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো আবার ফোনে কথা বলেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ‘সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচারের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’ ফিফার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর বিশ্ব ফুটবলজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা সোমবার কড়া ভাষায় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিফা সব সীমা (জবফ ষরহব) পার করে গেছে। যখন নিয়ম রক্ষাকারীরাই নিয়মের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন প্রতিযোগিতার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।’

জার্মানির কোচ হতে যাওয়া ইয়ুর্গেন ক্লপ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের খেলা, ওদের নয়। ট্রাম্প আর ইনফান্তিনো যদি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এটি ঠিক করে থাকেন, তবে তা পাগলামি। ফুটবলের ক খ না জানা দুজন মানুষের এসবের মধ্যে থাকা উচিত নয়।’ এমনকি সাবেক ফিফাপ্রধান সেপ ব্ল্যাটারও সমালোচনা করে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক ফোনালাপে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বদলায় না। ফুটবল কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলার মাঠ হতে পারে না।’