এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টাইন নিউক্লিয়াস
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জেতা এনজো ফার্নান্দেজ ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রধান ধমনি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি মাঠে থাকা মানেই লিওনেল স্কালোনির মিডফিল্ড ট্রাইডেন্টে রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে এমন এক রসায়ন তৈরি হওয়া, যা পাসিংয়ের পাশাপাশি রক্ষণেও সমান কার্যকরী। পুরো দলের খেলার গতি ও রণকৌশল আবর্তিত হয় তাকে কেন্দ্র করেই; বৈজ্ঞানিক তকমায় তিনি যেন লিওনেল স্কালোনির রণপরিকল্পনার আসল ‘নিউক্লিয়াস’। এনজো মূলত বল ডিস্ট্রিবিউশনে ছড়ি ঘোরান, যেখানে পিয়ানোর চাবির মতো কখনো তিনি রক্ষণের শক্ত দেয়াল হয়ে ওঠেন, আবার কখনো বা আক্রমণে জাদুকরী তান তোলেন। চলতি বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মাঝমাঠের এই মূল চালিকাশক্তি দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে নকআউট পর্বে মিসরের বিপক্ষে যখন বিদায়ঘণ্টা বাজছিল, তখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচকে মেসিরা সমতায় ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের মাপা ক্রসে এনজোর সেই রাজকীয় হেড ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখে দিয়েছে ৩,০০০তম গোলের অমর কীর্তি।
মাঠের এই মূল চরিত্রের প্রভাব অবশ্য এনজোর জন্য নতুন কিছু নয়। ক্লাব ফুটবলেও চেলসির নীল জার্সিতে মৌসুমজুড়ে ১৫টি চোখ ধাঁধানো গোল করা এই মিডফিল্ডার বড় ম্যাচে সবসময়ই নির্মম; ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের গোলগুলোই তার প্রমাণ।
গ্রানিত জাকা সুইস লিঞ্চপিন
মাঝমাঠ থেকে যার এক একটা পাস প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে টুকরো টুকরো করে দেয় নিখুঁত শল্যচিকিৎসকের মতো। ৩৩ বছর বয়সী এই সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা চলতি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ব্যূহ ভেদ করে ৬৩টি ‘লাইন-ব্রেকিং’ পাস দিয়ে স্পেনের রদ্রিগোর সঙ্গে যৌথভাবে আছেন টুর্নামেন্টের সেরা মিডফিল্ডারের তালিকায়। প্রতিপক্ষের তীব্র চাপ এক পাসেই ভেঙে দেওয়ার এই ক্ষমতাই জাকাকে সুইজারল্যান্ড দলের অবিসংবাদিত নেতা ও কোচ মুরাত ইয়াকিনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ‘লিঞ্চপিন’-এ পরিণত করেছে; যাকে ছাড়া পুরো সুইস কৌশলের চাকাটাই অচল। নকআউট পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে যখন মাঠে নামলেন, তখন শাকিরিকে ছাড়িয়ে বনে গেলেন সুইস ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৫০ ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি হিসেবে। মাঠের এই ঠা-া মাথার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই ফুটবল বিশ্লেষকরা সুইজারল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার মূল কৃতিত্ব দিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকেই।
অবশ্য সমালোচনার তীরও সবসময়ই তীরের গতিতে এসেছে তার দিকে। কিন্তু জাকা উত্তর দিতে ভালোবাসেন বুটের ডগায়। বসনিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি নেওয়ার সেই সাহসী সিদ্ধান্ত হোক কিংবা মানজাম্বিদের মতো তরুণদের আড়ালে রেখে দলের হাল ধরা, জাকা সবসময় এক অতন্দ্র প্রহরী। ৩টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডের রাতে জাকা প্রমাণ করেছেন, কেন এই সুইস ঘড়িটি এই বয়সেও তার কাঁটাতেই সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ঘুরে। ক্লাব ফুটবলেও জাকার সিদ্ধান্ত ছিল বেশ সাহসী; বায়ার লেভারকুজেনের হয়ে অপরাজিত ডাবল জেতার পর চেলসির লোভনীয় ও কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি সান্ডারল্যান্ডেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।