সুইসদের সমীহ করতে হবে মেসিদের

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এসে কোনো ম্যাচই সহজ থাকে না। নাম, ইতিহাস কিংবা র‌্যাংকিং, এসব তখন আর খুব বেশি পার্থক্য গড়ে দেয় না। শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় মানসিক দৃঢ়তা, মুহূর্তকে কাজে লাগানোর সামর্থ্য এবং ছোট ছোট ভুল এড়ানোর ক্ষমতা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি আমার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

আর্জেন্টিনা নিঃসন্দেহে ফেভারিট। তবে শুধুমাত্র তাদের তারকাবহুল দল কিংবা ফুটবল ঐতিহ্যের কারণে নয়। এই দলটি গত কয়েক বছরে একটি বিষয় খুব ভালোভাবে শিখেছে, চাপের মধ্যে কীভাবে নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে হয়। বড় ম্যাচে তারা অযথা তাড়াহুড়ো করে না। কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন বলের দখল ধরে রাখতে হবে এবং কখন প্রতিপক্ষকে অপেক্ষা করাতে হবে, এসব বিষয়ে তারা এখন অনেক পরিণত।

এই আর্জেন্টিনা আর শুধু ব্যক্তিনির্ভর দল নয়। তারা একটি সুসংগঠিত ইউনিট। আক্রমণভাগ যেমন ধারালো, তেমনি মাঝমাঠে রয়েছে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। ডিফেন্সও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে। এ ধরনের বোঝাপড়াই নকআউট ফুটবলে সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে তাদের মনে রাখতে হবে, ছোট দলগুলো কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে আসে না। কেপ ভার্দে কিংবা মিসরের বিপক্ষে তারা যে চাপে পড়েছে এবং সেই চাপ সামলে বেরিয়ে এসেছে, সেটা তাদের মাথায় থাকতে হবে। আরেকটা বিষয় কোচ স্কালোনির মাথাতেও থাকতে হবে, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়া গোলগুলোতে সৌভাগ্যেরও হাত রয়েছে কিছুটা। তাই সুইসদের বিপক্ষে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তাকে।

অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। ইউরোপের এই দলটি বছরের পর বছর ধরে প্রমাণ করেছে, তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে জানে। তারা খুব কম ভুল করে এবং প্রতিপক্ষের ভুলকে কাজে লাগাতে ওস্তাদ। অনেক সময় দর্শকদের কাছে তাদের ফুটবল খুব আকর্ষণীয় মনে না হলেও কার্যকারিতার দিক থেকে তারা সবসময়ই বিপজ্জনক। বিশেষ করে রক্ষণে সুইসরা অত্যন্ত সংগঠিত। দুই লাইনে ডিফেন্স সাজিয়ে তারা প্রতিপক্ষের জন্য জায়গা তৈরি হতে দেয় না। আর্জেন্টিনার সৃজনশীল ফুটবলারদের জন্য এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সেই রক্ষণ ভাঙা। যদি শুরুতেই গোল না আসে, তাহলে ম্যাচ যত এগোবে, সুইজারল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস তত বাড়বে।