নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এমন ব্যর্থতার পর দেশটির ফুটবল কাঠামো নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো। প্রতিভার অভাব নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিহীন ফুটবল প্রশাসনই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
রয়টার্সের সঙ্গে আলোচনায় নাসিমেন্তো বলেন, ‘ব্রাজিলের ফুটবল ভেঙে পড়েছে। এটা দুর্নীতির কারণেই হোক বা অন্য কিছু। পুরো ব্যবস্থাটা যেন একটি বন্ধ ও আত্মকেন্দ্রিক পরিবেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে বাইরের কেউ ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখতে পারে না। সবাই জানে কেন এটি ঠিকভাবে কাজ করছে না, কিন্তু কেউই সেটি ঠিক করতে পারছে না।’ ব্রাজিলে এখনো বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি হচ্ছে। জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার পেছনে ফুটবল ব্যবস্থাপনাকেই কাঠগড়ায় তুললেন তিনি, ‘দেশে এখনো প্রচুর প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আরও গভীর কাঠামোগত সমস্যারই লক্ষণ।’
একসময় বিশ্ব ফুটবলের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হওয়া ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতে ২০০২ সালে। এরপর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে সম্ভাবনার ঝলক দেখা গেলেও বিশ্ব ফুটবলে আগের আধিপত্য আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি সেলেসাওরা। বাবা পেলের প্রসঙ্গ টেনে নাসিমেন্তো বলেন, ‘আমার বাবা অনেক দিন ধরেই ব্রাজিলের ফুটবলের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন।’ একই সঙ্গে অন্য দেশের উদাহরণও টানেন পেলের মেয়ে, ‘ফ্রান্সের মতো দেশগুলো অনেক বেশি কার্যকর ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছে।’
ব্রাজিলের ফুটবল প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেও দেশটির ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক একটি পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নাসিমেন্তো। বিশেষ করে মার্কিন ব্যবসায়ী জন টেক্সটরের অধীনে ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ‘বোতাফোগো’-এর ঘুরে দাঁড়ানোর উদাহরণ টানেন তিনি। ২০২২ সালে রিও ডি জেনিরোর এই ক্লাবের সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেওয়ার পর টেক্সটর ক্লাবের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন। এ নিয়ে নাসিমেন্তো বলেন, ‘তিনি যেভাবে ক্লাব পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু সব কিছুরই ভালো ও খারাপ দিক থাকে। তিনি যে বিষয়টি নিয়ে এসেছেন, তা হলো স্বচ্ছতা। এছাড়া তিনি জবাবদিহির মধ্যে আছেন। তাকে নিয়ে যত অভিযোগই থাকুক না কেন, আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি।’