প্রতি বছর কোরবানি দেওয়ার পর পশুর বর্জ্য শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ সুরক্ষায় সেই বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তবে গেল কোরবানির ঈদে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না নগরবাসী।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে রাজধানীতে এত বাজে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন। অব্যবস্থাপনার দায়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনার পেছনের কারণ খোঁজ করেনি সিটি করপোরেশন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু দায়িত্ব পালনে অবহেলা নয়, এবারের কোরবানিতে পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপকরণ কেনাকাটায় কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতিও হয়েছে। কৌশলে নয়ছয় করা হয়েছে বিপুল অর্থ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টাকায় ১৭ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ সরবরাহের কাজ পায় মরগান ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নিয়াজ আলী চিশতী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলিব্যাগ সরবরাহের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। কৌশলে ব্যাগের আকার কমানো, এর পাশাপাশি নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে কম পুরুত্বের পলিথিন ব্যবহার করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে কেনা হয়েছে পলিব্যাগ। বাজারে যে ব্যাগ ৮-১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, সেটি কেনা হয়েছে প্রায় ২৪ টাকায়। ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া এমন অনিয়ম ঘটা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত ২০০২) অনুযায়ী, দেশে পলিথিন শপিংব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরপরও খোদ সিটি করপোরেশন কেন এ ধরনের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর না থাকায় এবার কোরবানির ঈদের সময় সিটি করপোরেশনের পলিব্যাগ নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করেন ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গাবতলী, ভাটারা, নিকেতন ও রামপুরা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার কাছ থেকে এ ধরনের কিছু পলিব্যাগের নমুনা সংগ্রহ করেন এ প্রতিবেদক। এ ছাড়া মিরপুরের দুটি ওয়ার্ডের বিএনপির দুজন নেতা, ডিএনসিসির একজন পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক এবং বাড্ডা এলাকার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছ থেকেও ব্যাগের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ডিএনসিসির টেন্ডারের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, প্রতিটি পলিব্যাগের পুরুত্ব সিঙ্গেল সাইডে কমপক্ষে ৫০ মাইক্রোন এবং ডাবল সাইডে ১০০ মাইক্রোন থাকার কথা। অর্থাৎ পলিব্যাগের এক পাশের প্লাস্টিক স্তরের পুরুত্ব কমপক্ষে ৫০ মাইক্রোন এবং দুই পাশ একসঙ্গে ধরলে মোট পুরুত্ব ন্যূনতম ১০০ মাইক্রোন হতে হবে।
তবে ঢাকা উত্তরে নাগরিকদের কাছে সরবরাহ করা ব্যাগের একাধিক নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করে ন্যূনতম মানের চেয়ে প্লাস্টিকের কম পুরুত্ব পাওয়া গেছে। পলিথিন উৎপাদনকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন এ প্রতিবেদক। তাদের মেশিনে ডিএনসিসির সরবরাহ করা পলিব্যাগে সিঙ্গেল সাইডের পুরুত্ব ৪০ মাইক্রোন পাওয়া যায়। বিতরণ করা ব্যাগগুলোর পুরুত্বের পাশাপাশি দৈর্ঘ্য-প্রস্থও সঠিক পাওয়া যায়নি। টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, প্রতিটি পলিব্যাগের দৈর্ঘ্য ৩৫ ইঞ্চি ও ২৩ ইঞ্চি প্রস্থ হওয়ার কথা। কিন্তু নগরবাসীকে বিতরণ করা ব্যাগে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে এক ইঞ্চি থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত কম পাওয়া গেছে।
অবশ্য ঈদের আগে ডিএনসিসি নগরভবন থেকে সংগ্রহ করা ব্যাগের পুরুত্ব ও পরিমাপে কোনো দুর্বলতা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা নমুনা ব্যাগের আকার ও পুরুত্ব ঠিক থাকলেও নগরবাসীকে বিতরণ করা হয়েছে আলাদা ব্যাগ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনকে কিছু ব্যাগ ঠিকঠাক তৈরি করে দিয়েছে। তবে বাকিগুলোর আকার, আয়তন ও পুরুত্ব ছিল কম। দুই ধরনের ব্যাগ পাশাপাশি রাখলেই মানের পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়।
এ ছাড়া চাহিদার চেয়ে বেশি ব্যাগ কেনার ঘটনা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অনুসন্ধানে জানা যায়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পলিব্যাগের একটি চাহিদাপত্র তৈরি করেছিল ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সেখানে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুমসহ ১০ অঞ্চলে মোট চাহিদা ছিল ১৬ লাখ ৩০ হাজার পিস। এর মধ্যে ৫০ হাজার পলিব্যাগ ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোলরুমের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যাগ কেনা হয় ১৭ লাখ ৩০ হাজার পিস। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে এক লাখ পিস বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনসিসির কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের জন্য নির্ধারিত ৫০ হাজার পলিব্যাগ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ঠিকঠাক দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। বাকি ১৬ লাখ ৮০ হাজার পলিব্যাগেই কোনো না কোনো ঘাটতি রয়েছে। ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ব্যাগ পরিমাপ করেও এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চাহিদার চেয়ে ১ লাখ ব্যাগ বেশি কেনা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনসহ বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পলিব্যাগে জালিয়াতি ও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে কেনার ক্ষেত্রে অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ৫০ মাইক্রোনের ওপরের পলিথিন বারবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা গ্রহণযোগ্য। সে হিসাব করেই ডিএনসিসি টেন্ডারের শর্তে পলিব্যাগের এক সাইড ৫০ মাইক্রোন এবং উভয় সাইডে ১০০ মাইক্রোন উল্লেখ করে দেয়। কিন্তু অনিয়ম ও সূক্ষ্ম জালিয়াতির মাধ্যমে সেই ব্যাগের পুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাতলা পলিথিন সহজেই ছিঁড়ে দ্রুত বর্জ্যে পরিণত হয়। এগুলোর পুনর্ব্যবহার যোগ্যতা থাকে না এবং শেষ পর্যন্ত ড্রেন-নালায় জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এগুলো মাটির উর্বরতা নষ্ট করা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ ঘটায়।
বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পলিথিন যত পাতলা হবে, তত দ্রুত ছিঁড়ে যাবে। ছিঁড়ে গেলে এগুলো মাটি ও পানিতে যাবে এবং পরিবেশের জন্য হুমকি ডেকে আনবে। পাতলা ও মোটা পলির মূল পার্থক্যের জায়গাটি হলো রি-সাইকেলবিষয়ক। বেশি পুরুত্বের হলে পুনর্ব্যবহার সহজ হয়। আর পাতলা পলিথিন পুনর্ব্যবহার বা রি-সাইক্লিংয়ে সমস্যা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পলির পুরুত্ব ৫০ মাইক্রোনের কম হলে আমরা পলিথিন বলি, আর এর উপরে গেলে প্লাস্টিকের ব্যাগ বলি। এ জন্য সিটি করপোরেশন স্পেসিফিকেশন ঠিক করে দিয়েছে। পণ্যের যে স্পেসিফিকেশন দেওয়া হয়, সেটা সুবিধা বিবেচনা করেই করা হয়। মাইক্রোন কম হলে স্বাভাবিকভাবেই পলিথিন ছিঁড়ে যাবে। ছিঁড়ে গেলে সেই বর্জ্য যেখানে-সেখানে পড়ে পরিবেশ নষ্ট করবে। পলিথিনের পুরুত্ব কমবেশি যাই হোক না কেন, এর ক্ষতিকর দিক আছেই। তাই সরকারকে এগুলোর বিকল্প চিন্তা করতে হবে। চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পলিব্যাগ বাদ দিয়েছে। এভাবে সবাইকে পলিথিন ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে।’
একজন প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত পণ্য গ্রহণ করে ক্রয়চুক্তির মৌলিক শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৫ লঙ্ঘন ঘটেছে। পণ্য চুক্তি ব্যবস্থাপনা বিধি ৫৫ ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের ফলে সরবরাহ করা পণ্যের বিল পরিশোধের বিষয়টি বৈধতা পায়নি। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সিটি করপোরেশনের উচিত স্বচ্ছতার স্বার্থে বিষয়টি আমলে নেওয়া।’
নগরে সরবরাহ করা পলিব্যাগের নমুনার আকার ও মান যাচাই করে এ খাতের দুজন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে জানান, এই ব্যাগ তৈরিতে ৫ টাকার বেশি লাগার কথা না। খুব ভালো মানের ব্যাগের দামও ৭ থেকে ৮ টাকা হতে পারে। এর সঙ্গে ব্যাগের ওপরের লেখা হুল, ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে সর্বোচ্চ ১০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এ হিসাবে বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে নিম্নমানের ব্যাগ কিনেছে ডিএনসিসি।
ব্যাগে ব্যবহার করা কালির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোরবানির দিন হালকা বৃষ্টির পানিতেই ডিএনসিসির লোগোসহ সচেতনতামূলক সেøাগান উঠে যায়। আবার কোথাও বর্জ্যরে ভারে ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে। গাবতলীর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, কোরবানির আগে তারা তিনটি ব্যাগ পান। এর মধ্যে একটি ব্যাগে কোরবানির বর্জ্য নিয়ে প্রধান রাস্তায় যাওয়ার আগেই ছিঁড়ে যায়। এ জন্য বাকি দুটি ব্যাগ আর ব্যবহার করেননি।
ভাটারা এলাকার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে একটি পলিব্যাগ পেয়েছিলাম। তবে পাতলা দেখে আর ব্যবহার করিনি।’ উত্তরা এলাকার ডা. আবুল হোসাইন ও সুমাইয়া শিমু, মিরপুরের ইমদাদ খান, দক্ষিণ খানের ইয়াসিন রানা, রামপুরার শাকিল পারভেজসহ অন্তত ১৫ বাসিন্দা দাবি করেন, তারা ব্যাগ বিতরণের খবর পাননি।
রামপুরার হাজীপাড়া এলাকার আয়েশা বেগম জানান, এবার সিটি করপোরেশনের কোরবানির বর্জ্যরে পলিব্যাগ পাননি। পরে কাছাকাছি আকারের কালো রঙের ব্যাগ বাজার থেকে কিনেছেন। এর দাম পড়ে ছিল ৫ টাকা। পলিথিন উৎপাদনকারী দুজন ব্যবসায়ীর দাবি, সিটি করপোরেশনের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভালো মানের ১৭ লাখ ৩০ হাজার পিস পলিব্যাগ কিনতে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার বেশি লাগার কথা নয়। অথচ নিম্নমানের ব্যাগের পেছনে ডিএনসিসি ব্যয় দেখাচ্ছে চার কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টাকা।
মরগেন ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকবার তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন না। এ জন্য গাজীপুরের শ্রীপুরের কারখানায় যেতে হবে। ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে গত ৫ জুলাই যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সোম ও মঙ্গলবার ঢাকায় মিটিংয়ে থাকবেন। এ সময় ঢাকায় কথা বলার অনুরোধে তিনি সাড়া না দিয়ে দুদিন পর কারখানায় যেতে বলেন। এরপর গত বুধবার দুপুরে শ্রীপুরের ফরিদপুর গ্রামে মরগেন ওভেন ব্যাগ কারখানায় যান এ প্রতিবেদক। গেটে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মী মোবাইল ফোনে ইব্রাহিম খলিলকে অবহিত করেন। কিছুক্ষণ কথা বলে ওই কর্মী বলেন, ‘স্যার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া দেখা করেন না।’ এরপর ইব্রাহিম খলিলের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়াজ আলী চিশতী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পলিব্যাগগুলো ঠিকঠাকই ছিল। কোনো রকম কমবেশি করা হয়নি। কম দিলে ব্যাগগুলো ফেটে যেত। এগুলো তৈরির সময় পলি একটি টিউবের মধ্য দিয়ে বের হয়, সেখানে পুরুত্ব কম হওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি দাবি করেন, ঈদের আগেই ডিএনসিসির ভা-ারে টাইট পরীক্ষা হয়েছে। যে সময় সাংবাদিকসহ কর্মকর্তাদের সামনে ৩৫ কেজি লোড দিয়ে ব্যাগগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে ডিএনসিসির ভা-ার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের আগে আমি ছুটিতে ছিলাম, কিন্তু সব খবর রেখেছি। পলিব্যাগ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর আমরা সব নিয়ম মেনে সেগুলো গ্রহণ করেছি। আলাদাভাবে পরিমাপ করে দেখে ব্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথম সারির মিডিয়া ডেকে এনে, তাদের সামনে পলিব্যাগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। যেসব অভিযোগ উঠেছে, সব ভুয়া।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল ও প্রসিকিউশন) এবং সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মইদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন সরকারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী মালামাল না দিলে সেটা গ্রহণ করার কথা নয়। যেহেতু কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন, সেহেতু তাদের মধ্যে একটা যোগসাজশ আছে। এখানে কমিশন ও লেনদেনের ব্যাপার রয়েছে। সিটি করপোরেশন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এটি করলে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা থাকবে। তা না হলে মানুষ মনে করবে সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।’