চলতি বছরে দলের কাউন্সিল ও তার আগে দলের পুনর্গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গতকাল শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে দলের এ বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রায় দুই মাস পর অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনায় দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো প্রধান্য পায়। মূলত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হানাহানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় সরকারের পাশাপাশি দলীয় সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন পর দলের বৈঠক হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও ছিল। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলগত প্রস্তুতির জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গসংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং একটি ক্রেস্ট উপহার দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আলোচনায় সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত বক্তব্যও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য কাউন্সিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তারেক রহমান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে। সূত্র জানায়, অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বেকারত্ব কমানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখননের মতো কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।
বৈঠকে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশ ও সার্বিক অবস্থা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তা বিস্তারিত গণমাধ্যমে জানাবেন।
জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বেগম সেলিমা রহমান। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাস স্কাইপে যোগ দেন দলের জরুরি এই বৈঠকে।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল এবং ১৭ মে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয় বলে জানা গেছে।