এবার চোখ টি-টোয়েন্টি সিরিজে

একে একে ১৬টি ডট খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর আরও ৪টি। ২৮ বলের ইনিংসে ২০ বলই কোনো রান নেননি বাংলাদেশের এই টপ অর্ডার ব্যাটার। সুযোগ যে আসেনি, সেটাও নয়। একাধিকবার বল বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের কুড়িয়ে ফেরত পাঠালেও রানের চেষ্টা করেননি তিনি। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা তানজিদ হাসান তামিমকে সুযোগ করে দিতে এমন সিদ্ধান্ত তার। তবে খুব করেও ব্যর্থ তামিম। জিতলে প্রয়োজন ৩ রান, শতকের জন্য চাই ৬ রান। সেখান থেকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। এরপর দ্রুত তাওহীদ হৃদয়ও ফেরেন। এই চাপ সামাল দিতে পরের ৪ বলে কোনো রান বের করতে পারেননি শান্ত। ওই ৩ রান নিতে ২১ বল খেলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। যদিও পরে এর ২ রানই আসে ওয়াইড থেকে। গতকাল হারারেতে সহজ জয়ের ম্যাচও এমন নাটকীয় পরিস্থিতির জন্ম দেন সফরকারীরা।

তবে বিপদ হয়নি হাতে যথেষ্ট ওভার ও উইকেট থাকায়। এমনিতেই আগের দুই ওয়ানডে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। গতকাল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে নামেন তারা। বোলারদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে অলআউট করে। পরে তামিম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিতে ১৫১ রান তোলে বাংলাদেশ। জয়ের কাজটা এখানেই সহজ হয়ে যায়। সব ছাপিয়ে ৭ উইকেট ও ৮৪ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ দল।

এই জয় টি-টোয়েন্টিতে আত্মবিশ্বাস দেবে বলেই মনে করেন ম্যাচসেরা ওপেনার তামিম, ‘আমি দারুণ খুশি। উইকেটটি খুব ভালো ছিল। যখন আমি ব্যাটিংয়ে নামি, তখন বল ভালোভাবেই ব্যাটে আসছিল। আগের উইকেটগুলোতে কিছুটা বাউন্স ছিল। তারা (জিম্বাবুয়ের বোলাররা) খুব ভালো বোলিং করেছে। এই জয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’

যদিও এই জয়ের ছন্দটা বুনে দেন বোলাররাই। শরিফুল ইসলাম সর্বাধিক ৪ উইকেট ও তাসকিন আহমেদ অনবদ্য বোলিংয়ে ২ উইকেট পান। ম্যাচশেষে বোলারদের প্রশংসায় ভাসান অধিনায়ক মিরাজ, ‘তাসকিন ও শরিফুল যেভাবে বোলিং করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। আমাদের সামনে (টি-টোয়েন্টি) এখনো ভালো সুযোগ আছে। আমরা জিতেছি, আর এই জয় আমাদের গতি এনে দেবে। আমাদের পেস বোলাররা খুব ভালো বোলিং করেছে।’

গতকাল জিম্বাবুয়ের দলীয় ১৭ রানে প্রথম আঘাত হানেন শরিফুল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারেনকে (২) ফেরান এ বাঁহাতি পেসার। পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে আউট করেন তাসকিন। একটু পর দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল। ব্যক্তিগত ৫ রান করে আউট হন ক্রেইগ আরভিন। এরপর হাল ধরেন ওয়েসলি মাধেভেরে। চতুর্থ উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়ার (২৫) সঙ্গে ৫১, পঞ্চম উইকেটে সিকান্দার রাজার (১১) সঙ্গে ২৯ ও সপ্তম উইকেটে ব্রাড ইভান্সের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাঝে ক্লাইভ মাডান্ডে ১ রান করে আউট হন। অর্ধশতক করা মাধেভেরে দেখেশুনে খেলে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন, তবে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তানভীর ইসলামের স্পিনে ধরা পড়েন তিনি। এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ৭৫ রানে আউট হলে দায়িত্ব নেন ইভান্স। শেষ দিকে তার ৫০ রানের সৌজন্য ২০০ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।

জবাব দিতে নেমে দারুণ ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের ভীত পায় বাংলাদেশ। সৌম্য ৬৯ রানে আউট হলে সেঞ্চুরির জন্য চেষ্টা করেন তামিম, তবে হয়নি। তিনবার জীবন পেয়ে ৯৪ রানে থামেন তিনি। তবে তিনে নামা শান্ত ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অবশ্য এই ম্যাচে স্বাগতিকদের নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারভার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভাবনায় বিশ্রামে ছিলেন তারকা পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামুরি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে : ১৯৯/১০, ৪৮.১ ওভার (মাধেভেরে ৭৫, ইভান্স ৫০, কাইয়া ২৫; শরিফুল ৪/৪৪, তাসকিন ২/৩২)

বাংলাদেশ : ২০০/৩, ৩৬ ওভার (তামিম ৯৪, সৌম্য ৬৯, শান্ত ১৮*; মাসুকু ২/৩৩, চিভাঙ্গা ১/৩৪)

ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী