তিস্তাসহ গাইবান্ধার সব নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ছুঁই ছুঁই করছে। কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিকেল ৬টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, জেলার সব নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলমগ্ন হয়েছে পড়েছে। নিন্মাঞ্চলগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। জেলার অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা। গ্রামীণ সড়কে পানি ও কাঁদা থাকা। এতে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।
গাইবান্ধা পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার, করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার ডেঞ্জার লেভেল ২৯.৩১ মিটার, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৬টায় ওয়াটার লেভেল ২৯.৩০ মিটার। অর্থা তিস্তার পানি ডেঞ্জার লেভেলের ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতের মধ্যেই তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। গতকাল সোমবার বিকেল ৬ টা থেকে আজ মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত এই পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৫মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি বৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারি, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, এরেন্ডাবাড়ি, রসুলপুর,উরিয়া, ফজলুপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, লালচামার, তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় অন্তত ২৬ টি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টির পানিতে পলাশবাড়ী উপজেলার মাঠেরবাজার,তুলশীঘাট, কুমারগাড়ী, রওশনবাগ, হরিণমারিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার গ্রামীন কাঁচা সড়কগুলো পানির নিচে। কিছু সড়কে কাঁদা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার মানুষের সাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিস্কাশনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এসব বিষয়ে পাউবোর গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বড় বন্যার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভাঙন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিত্বে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।