ঝুঁকিপূর্ণ প্রধান সড়ক, বাঁশখালীর অভ্যন্তরীণ সড়ক লাজুক অবস্থা

সাম্প্রতিক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একদিকে প্রধান সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন ও ফাটলের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় এলাকার লাখো মানুষ। 

বৃষ্টি ভেজা গন্ডামারা সড়কে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদার

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্দশায় পড়া মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

বাঁশখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁশখালী উপজেলার সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব  মতে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ৬০টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ১১০.৭০ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি কালভার্ট এবং ২টি ব্রিজ (সেতু), ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ/কালভার্টের মোট দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার, পানি সম্পদ ১টি অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতির প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী ১৫০৮.০০ লক্ষ টাকা (১৫ কোটি ৮ লক্ষ টাকা)। 

সরেজমিনে দেখা, বাঁশখালীর বাহারছড়া, ছনুয়া, সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল,চাম্বল, শীলকুপ, পৌরসভার জলদী, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ এলাকার অভ্যান্তরীন  সড়কগুলোর কার্পেটিং, ইট ও মাটি ধুয়ে-মুছে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখনও অধিকাংশ রাস্তা পানির নিচে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা এই দুর্দিনে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা জরুরি প্রয়োজনেও উপজেলা সদরে বা হাসপাতালে যেতে পারছেন না। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে ত্রাণ বিতরণে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল না থাকায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

ছনুয়া এলাকার আবুল কালাম, শাহ আলমও সিএনজি চালক নুর আহমদ বলেন, সড়ক গুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে লোকজন এখানে আসার সাহস পাচ্ছে। অধিকাংশ স্নেুইট গেইট গুলো বন্ধ থাকায় পানি সাগরে যেতে না পারায় জমাটবেঁধে আছে। সড়কগুলোর এই লাজুক অবস্থার কারণে তারা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ও কালভার্টগুলো মেরামত করা না হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে এবং বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে ঝুকিপূর্ণ বাঁশখালীর প্রধান সড়কের ব্যাপারে জানার জন্য সওজের দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমাকে মোবাইলে কল ও মেসেজ দেওয়া হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সওজের পক্ষে  প্রধান সড়কে কিছু লাল পতাকা দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়ে।

বাঁশখালীর বন্যা জলাবদ্ধতা ব্যাপারে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সোমবার বিকালে তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, শুধু সরল নয়, বাঁশখালীর সাধনপুর, বহারছড়া, চাম্বল, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ স্লুইস গেইট বন্ধ করে পানি আটকে রেখে মাছ ঘের তৈরি করে কৃত্রিম বন্যা তৈরি করা অত্যন্ত অমানবিক কাজ। আর যাই হউক এরা মানুষ হতে পারেনা- এরা  দেশ ও জাতির দুষমন।  যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহায়, ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন ব্যক্তিগত স্বার্থে মানুষের কষ্টকে উপেক্ষা করার কোনো নৈতিক অধিকার কারও নেই। বাঁশখালীর মানুষের প্রাণ, সম্পদ ও জীবিকা রক্ষায় অবিলম্বে সব প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ইনশাল্লাহ। 

এদিকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে বৃষ্টি বাদলের দিনে ভেজা সড়কে কম বালি, বিটুমিন হীন সড়কের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে চাস্বল বাজার থেকে গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির অবগত না থাকলে ও ঠিকাদার নিজ উদ্যোগে এ কাজ করছে বলে জানান তিনি। জনগুরুপ্ত পুর্ণ এ সড়কটি সরকারি দায়িত্বরক প্রকৌশলী ছাড়া বৃষ্টি ভেজা সড়কে কাজ চালিয়ে যাওয়াতে স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।