বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ৩ শিশুর মৃত্যু, আশ্রয়কেন্দ্রে সহস্রাধিক মানুষ 

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্নার সংকট দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার ৪ নম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রত্নপুর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো, বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ কামালের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৮) এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুর এলাকার মোহাম্মদ দেলোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ মিরাজ (৬)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে বাহারছড়া ইউনিয়নে বাড়ির উঠানে থাকা দুই শিশু ভেসে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে, তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে, সরল ইউনিয়নের পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকায় পানিভর্তি বিলে পড়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছর বয়সী তাহিন নুর। স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে বন্যার পানিতে উপজেলার পশ্চিমাংশের ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, কাহারঘোনা, মিনজীরিতলা, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, শীলকুপ ও চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব এলাকায় পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সরল, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকায় একদিকে সাগরের জোয়ারের পানি এবং অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া কালীপুর, বাঁশখালী পৌরসভার জলদী, বৈলছড়ি, পুইছড়ি, চাম্বল ও শীলকুপ এলাকায় পাহাড়ি ঢলে কিছু বাড়িঘর ও ফসলি জমি মাটি চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নার চুলা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। ফলে অনেক পরিবার রান্না করতেও সমস্যায় পড়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, দেড় হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং ৪৭ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা এখনও অপ্রতুল।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, বাহারছড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সন্ধ্যায় আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলীয় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ অবস্থান করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭ টন চাল, প্রায় ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং দেড় হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. শফিকুর রহমান বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বাঁশখালীকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত