টানা ঊর্ধ্বগতির পর অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। আগের কার্যদিবসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ২ শতাংশের বেশি বাড়লেও, পরের সেশনেই তা নিম্নমুখী হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ৪,০২৮.১৩ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৩৩.৯০ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের চাহিদার ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এর মূল্যে।
বিশ্ববাজারের এই মন্দা ভাবের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশের বাজারেও। সবশেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ড-এর দাম কমে যাওয়ায় নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
নতুন এই মূল্য তালিকায় ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা। দেশের বাজারে নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ায় সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।