বৈরী আবহাওয়াসহ অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। স্থগিত হওয়া বিষয়ের পরীক্ষার সঙ্গে এ সব পরীক্ষার্থী অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পুনরায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন প্রণয়নের দায়ে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ওই ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সম্প্রতি ভারীবর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পাঁচটি জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ১৯তম পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু স্থানে বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ প্রতিকূলতার কারণে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনে এইচএসসি পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ কারণেই বিশেষ বিবেচনায় এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতিমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে ও সময়ে এই বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষার ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ীদের ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ছয় নম্বর এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল ছিল, তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।