দেশ রূপান্তরকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

পে-স্কেল বাস্তবায়নে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার কাছাকাছি সরকার

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে ‘একটি কাঠামোগত চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার কাছাকাছি’ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে বৈঠকে কমিটির সদস্যরা পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রায়োগিক জটিলতা নিয়ে আরও আলোচনা করার পক্ষে অভিমত দিলে অধিকাংশ সচিব তাতে সম্মতি দেন। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার এই বৈঠক হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা-দুটি দিকই সমন্বয় করার কথা এসেছে। সচিব কমিটির অধিকাংশ সদস্য এ ব্যাপারে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এজন্য আরও সময় লাগবে। তবে আমরা একটি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছি।’

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটি এর আগে গত জুনের ২৪ তারিখে সবশেষ বৈঠক করে। তখন বাজেটে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা। ওই বৈঠকেও নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন।

সরকার ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় বিষয়টি নিয়ে আবারও সচিব কমিটির গতকালের বৈঠক হয়।

সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক ধাপ কমিয়ে দুই ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বিদ্যমান ব্যয়ের প্রায় সমপরিমাণ বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অর্থনীতির সংকটময় সময়ে এই বিপুল অর্থসংস্থান কীভাবে হবে তা নিয়ে সরকার প্রবল চাপে রয়েছে। এই চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদান এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।

কমিটি সূত্র জানায়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া পে-স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সে জন্য বিধিমালা সংশোধন ও ভেটিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশনের প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল করার কারিগরি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুমোদন করে। এতে সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সর্বোচ্চ ধাপে বেতন কাঠামো ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ধাপে বেতন কাঠামো ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বেতন-ভাতা বাড়ানোর এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করার কয়েক মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদিত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দায়িত্ব ঘাড়ে চাপে। এজন্য চলতি অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন বাবদ সরকারের দরকার হবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

সরকার পরিচালন ব্যয় মেটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন ঋণ চেয়েছে। আর সেই ঋণচাহিদার প্রেক্ষাপটে আইএমএফ প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়। আইএমএফ ঋণের বিপরীতে সরকারের নেওয়া সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণচাহিদার যথার্থতা এবং ব্যবহার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা, অর্থসংস্থান ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত