মেসিজাদুতে নিভল হ্যারি কেইন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক দ্বৈরথের সাক্ষী হলো সারা বিশ্ব। প্রথমার্ধের চরম উত্তেজনা, মারামারি আর ফাউলের মহড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলের এই জাদুকরী প্রত্যাবর্তনের নেপথ্য নায়ক লিওনেল মেসি, যার দুর্দান্ত দুটি অ্যাসিস্টেই কপাল পুড়েছে ইংলিশদের। গ্রুপপর্বে করেছেন গোল। নকআউটগুলোতে দল যখন পিছিয়ে, তখন অন্যদের দিয়ে গোল করিয়ে মেসি দলকে টেনে তুলেছেন খাদের কিনারা থেকে।

ম্যাচের আবহ এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শুরু থেকেই মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে ওঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের আগ্রাসন। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে মাঠজুড়ে চলেছে শুধুই শারীরিক শক্তি ও কনুইয়ের লড়াই, ফাউল আর রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ানোর দৃশ্য।

ইংল্যান্ড কিছুটা গুছিয়ে খেলে রজার্স ও গর্ডনকে দিয়ে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফাইনাল পাসের ভুলে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন কড়া পাহারায় রেখেছিলেন লিওনেল মেসিকে। প্রথমার্ধের একমাত্র সহজ সুযোগটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, যখন এনজো ফার্নান্দেজের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটটি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে প্রাণ ফেরে। ৪৭ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের পাস ধরে রাইস বল বাড়িয়ে দেন রজার্সকে। রজার্সের ক্রস থেকে দ্বিতীয় পোস্টে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার বদলে যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা, আর পুরো ইংল্যান্ড দল রক্ষণাত্মক কৌশল (বাস পার্কিং) অবলম্বন করে নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যায়।

ম্যাচ যখন শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। মেসির ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচান পিকফোর্ড। এর কিছুক্ষণ পর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।

অবশেষে ৮৫ মিনিটে ফেরে সমতা। কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। এনজোর দুর্দান্ত বাঁকানো শট পরাস্ত করে পিকফোর্ডকে (১-১)।

গোল হজম করার পর ইংলিশদের মনোযোগ সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। আর সেই সুযোগে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) ডানপ্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় অরক্ষিত লাউতারো মার্টিনেজকে। দ্বিতীয় পোস্টে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান এই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।

আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবেন আলবিসেলেস্তেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত