বিয়ের একদিন পর মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার, শোকে মামার মৃত্যু

নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর মো. আব্দুল মালেক নামে এক মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মুয়াজ্জিনের মামা আহিদুল ইসলাম (৬৫)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার কাকড়া চৌপতি মুনাগাছা গ্রামের বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন মামা আহিদুল ইসলাম (৬৫) ওই গ্রামের মৃত মোজর উদ্দিনের ছেলে ও মুয়াজ্জিন মো. আব্দুল মালেক (২৫) মৃত নুরুল হকের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মুয়াজ্জিন মো. আব্দুল মালেকরা তিন ভাই। তিনি সবার ছোট। তাদের বাবা-মা দুইজনেই মারা গেছেন। মুয়াজ্জিন আব্দুল মালেক চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। পাশাপাশি পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ১৪ জুলাই একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে মুয়াজ্জিন আব্দুল মালেকের বিয়ের কাবিননামা হয়। এর একদিন পর বুধবার (১৫ জুলাই) মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ কেন্দ্র করে এলাকায় রহস্য সৃষ্টি হয়।

এলাকার মুসল্লি মো. জলিল উদ্দিন জানান, বিশ্বকাপ খেলা চলাকালিন বুধবার (১৫ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে খবর আসে মসজিদের ভিতর থেকে মুয়াজ্জিন আব্দুল মালেকের ঝুলে আছেন। ডিমলা থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় একই এলাকার মুয়াজ্জিনের বৃদ্ধ মামা আহিদুল ইসলাম ভাগিনার মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

মৃতের বড় ভাই মো.রাজ্জাকুল ইসলাম অভিযোগ, আমার ছোট ভাইয়ের মঙ্গলবার রাতে তার বিয়ে হলো, আর পরদিন বুধবার রাতে তার মৃত্যু হলো এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা। আমি এটির সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করছি। 

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, বিয়ের মাত্র একদিন পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগনের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তার মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এবিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মুয়াজ্জিন আব্দুল মালেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।