কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপি সার কারখানা

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী কারখানায় টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দেখা দিয়েছে ফসফরিক এসিডের তীব্র সংকট। ফলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম।

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ধান, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এই সারের ব্যাপক ব্যবহার হয়। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত এই কারখানার দীর্ঘ সময় অচল থাকাকে কৃষি খাতের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ২০ হাজার টন ফসফরিক এসিড সরবরাহে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। এতে কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহের কথা ছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে জর্ডানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ফসফরিক এসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পৌঁছায় উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কাঁচামাল সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ জুন ও ২৩ জুন নতুন করে দুটি দরপত্র আহ্বান করে। তবে কারখানা সূত্র জানিয়েছে, এতে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে। পরে আবার দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর একটি আগামী ৮ আগস্ট এবং অন্যটি ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন দরপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহের পথ তৈরি হতে পারে। ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হক বলেন, কারখানা চালু রাখতে দৈনিক ৬০০ টন ফসফরিক এসিডের প্রয়োজন। কারখানায় ২০ হাজার টন মজুদ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘœ ঘটায় এবং নির্দিষ্ট মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে।

তিনি বলেন, ফসফরিক এসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।

প্রসঙ্গত দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে।