ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট দিয়ে বিক্রি

মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মোটরসাইকেল চুরি করাই তাদের নেশা। চক্রটি মোটরসাইকেল চুরি করার পর সেগুলো ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লায় তাদের সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। পরে তারা কৌশলে বিভিন্নজনের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। গত মাসের একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় তদন্তে নেমে এই চক্রের সন্ধান পায় ভাটারা থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ভাটারা থানার পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২৪ জুন যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটের পাশে আবু সাঈদ গেটের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের সূত্র ধরে ২৬ জুন খিলবাড়িরটেক এলাকা থেকে চক্রের সদস্য সোহেলকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জুন তার সহযোগী মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর পিসি পিয়ার পর্যালোচনা করে পুলিশের চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। এই চোর চক্রের অন্যতম সদস্য রিপনের বিরুদ্ধে ডিএমপিসহ দেশের বিভিন্ন থানায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩টি মামলা রয়েছে।

পরে রিমান্ডে রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চোর চক্রের নতুন সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত এজেন্টদের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রায় এক মাস ধরে চলা এ অভিযানে এখন পর্যন্ত চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রিপনের তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ চোর চক্রের দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হাজারীবাগ থেকে চলতি মাসের প্রথম দিকে চোর চক্রের অন্যতম সদস্য নুরুজ্জামান জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে ময়মনসিংহ জেলার সদর ও ফুলপুর থানা এবং নেত্রকোনা জেলার সদর থানা এলাকা থেকে আরও ১১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেনÑ  সায়েদ, রাব্বি, আশিক, সোহাগ ও মারুফ। আসামিদের কাছ থেকে পালসার মোটরসাইকেল ৬টি, ডিসকভার ৩টি, হিরো গ্লামার ১টি, বাজাজ বক্সার ১টি, হোন্ডা ৫টি, টিভিএস স্টাইকার ৩টি, এফজেড ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।