চাঁদপুর

খাল পুনঃখননে ফিরল কৃষির সুদিন

এক সময় শুকনো মৌসুমে পানির অভাব আর বর্ষায় জলাবদ্ধতায় বিপাকে পড়তেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃষকরা। তবে খাল খনন ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফসলি মাঠ কৃষকদের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এদিকে খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধিসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাল খনন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এর ফলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয় এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বাবার স্বপ্নকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের মতলব উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচক থেকে শিকারীকান্দি পর্যন্ত খাল পুনঃখনন করা হয়। 

দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনঃখননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এর ফলে জলবদ্ধতা ও সেচে অনেকটাই উন্নতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়  কৃষকরা। 

স্থানীয় কৃষক শাহাদাত হোসেন  ও রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় খালটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। সম্প্রতি খালটি পুনঃসংস্কার করায় সেচব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং চাষাবাদের খরচও কমবে। আগে পানির সংকটের কারণে যেসব জমিতে পুরোপুরি চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না, সেসব জমিও এখন আবাদ করা যাবে। এছাড়া খালটি খননে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জলাধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুর জেলা যুবদলের সদস্য ও মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক খাইরুল হাসান বেনু জানান,
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন বিপ্লবের ধারায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মতলব উত্তরের এই খালটি খননের ফলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচসংকট ও জলাবদ্ধতার সমাধান হয়েছে এবং চাষাবাদের খরচ কমবে। খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষাতেও কাজ করছি। কৃষকের মুখের এই স্বস্তি ও উন্নয়ন প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, দীর্ঘদিনের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। খালটি পুনঃখননের ফলে সেই সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন খালের আশপাশের জমিগুলোতে সেচ সুবিধা সহজলভ্য হবে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। এখন খালটি পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।