মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের অলীপুর গ্রামে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি মো. জনি খান (৪৫) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বিল্লাল হোসেনের বাড়ির গোসলখানা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
নিহত জনি খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কামালদী-মাথাভাঙ্গা গ্রামের আবুল কাশেম খানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনিকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জনির মৃত্যুর বিষয়ে বিল্লাল হোসেনের বক্তব্যে জানা যায়, সোমবার দুপুরে তিনি তার ঘরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় জাহিরাবাদ ইউনিয়নের নেদমদি গ্রামের ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে জনিকে নিয়ে তার বাড়িতে আসেন। বিল্লালের ভাষ্য, ইব্রাহিম তাকে বলেন, জনি ভাই অসুস্থ, বুক ও গলায় জ্বালাপোড়া করছে। তাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একজন ডাক্তার দেখান।
পরে বিল্লাল তার পাশের বাড়ির পল্লী চিকিৎসক মহসিনকে ডেকে আনেন। চিকিৎসক এসে জনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তখনও জনি জীবিত ছিলেন বলে দাবি করেন বিল্লাল। পরে চিকিৎসক বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে তাকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান তিনি।
বিল্লাল আরও জানান, ইব্রাহিম তার পরিচিত এবং প্রায় দুই-তিন বছর ধরে তার সঙ্গে পরিচয় রয়েছে। ইব্রাহিম রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রোলার চালান। তবে জনিকে মোটরসাইকেলে করে তার বাড়িতে কেন নিয়ে আসা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।
জনির মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জনির মা হাজেরা বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিল। ঢাকায় আমার ছেলে মোবাইলের ব্যবসা করত। ও ভালো হয়ে গিয়েছিল। জনির ছোট ভাই রনি খান বলেন, আমার ভাই মরে নাই। তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করলে সুস্থ হয়ে উঠত। তিনি জানান, তার ভাই ঢাকায় মোবাইলের ব্যবসা করতেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, জনি প্রায়ই বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আসতেন এবং সেখানে অবস্থান করতেন। তবে জনির মৃত্যুর সঙ্গে বিল্লালের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, কিংবা তাদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জনি খানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মতলব উত্তর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
