এসএ গেমসে খো খোকে স্বর্ণ এনে দিতে চাই

প্রথমবার কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হওয়া নিয়ে

রায়হান উদ্দিন ফকির : খুব ভালো লাগছে। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় বর্তমান সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ এবং যারা আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে সামনে।

প্রধান লক্ষ্য কী?

রায়হান ফকির : এই দায়িত্ব আমার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় অঙ্গীকারও। যদি মার্চ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকি, তাহলে আগামী এসএ গেমসে খো খো ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশকে স্বর্ণপদক এনে দেওয়া। দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।

খো খোর উন্নয়নে পরিকল্পনা

রায়হান ফকির : তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দক্ষ কোচ, রেফারি ও টেকনিক্যাল কর্মকর্তা তৈরি, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং নারী-পুরুষ উভয় বিভাগের সমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের খো খোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই।

ক্রীড়া অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে কতটা সহায়ক হবে?

রায়হান ফকির : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে টানা ১১ বছর ক্রীড়া অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে খেলোয়াড় তৈরি, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও ক্রীড়া প্রশাসনে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা খো খোর উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।

নিজের ক্রীড়া ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে

রায়হান ফকির : ছাত্রজীবনে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট, হাই জাম্প ও লং জাম্পে একাধিক স্বর্ণপদক অর্জন করেছি। আন্তর্জাতিক মাস্টার্স অ্যাথলেটিকসেও স্বর্ণপদক জিতেছি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ ও ২০২২ সালে দুইবার রাষ্ট্রপতি আনসার পদকে ভূষিত হয়েছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের দুইবার নির্বাচিত সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। স্পোর্টস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খেলোয়াড় তৈরি, প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিয়েছি। আমার দায়িত্বকালেই ২০১৪ ও ২০২০ সালের বাংলাদেশ গেমসে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ সাফল্যের পেছনে মহাপরিচালকের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ক্রীড়াবান্ধব ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ক্রীড়াঙ্গনে আনসারের দারুণ সাফল্য নিয়ে

রায়হান ফকির : বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্রীড়া সাফল্যের পেছনে মহাপরিচালক মহোদয় মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ স্যারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ক্রীড়াবান্ধব ভূমিকা অবশ্যই রয়েছে, যা প্রশংসার যোগ্য। তবে দেশের স্বার্থে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সাফল্যে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

খো খোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা

রায়হান ফকির : আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের খো খো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয় নয়; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের খো খোকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করা। দেশের স্বার্থে যোগ্য ও ক্রীড়াবান্ধব নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও এগিয়ে যাবে।