২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জুয়া এবং সম্ভাব্য ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ফিফা ও আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেন’-এর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে রেকর্ড ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হলেও, ভিএআর সিদ্ধান্ত ও অস্বাভাবিক জুয়ার কারণে বিশেষ করে স্পেনের দুই ম্যাচসহ বেশ কিছু ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আতশিকাঁচের নিচে।
স্পেনের দুই ম্যাচে অনিয়মের সন্দেহ
ইউরো কাউন্সিলের অধীনস্থ নজরদারি সংস্থাটির রিপোর্টে মোট ৭টি ঘটনার ক্ষেত্রে সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেনের দুটি ম্যাচের ঘটনা বিশেষভাবে উঠে এসেছে:
স্পেন বনাম কেপ ভার্দে: গ্রুপ পর্বে ০-০ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচে 'পলিমার্কেট' নামের বেটিং প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিকভাবে ৪.৮ মিলিয়ন ডলার বাজি ধরা হয়—যার মূল বাজিই ছিল স্পেন জিতবে না।
স্পেন বনাম সৌদি আরব: ৪-০ গোলে স্পেনের জয়ের ম্যাচে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের একটি গোল বাতিল করতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দলের সাড়ে তিন মিনিটের অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বালোগুন বিতর্ক ও অন্য ঘটনা
স্পেন ম্যাচ ছাড়াও শেষ-৩২ রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলাডিন বালোগুন লাল কার্ড পাওয়ার দিনই অনলাইনে বাজি ধরা শুরু হয় যে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন কি না। আশ্চর্যজনকভাবে, ৩ দিন পর ফিফা তাঁর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে খেলার অনুমতি দেয়, যা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। এ ছাড়া মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ড পাওয়াকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফিফার অস্বীকার ও রেকর্ড বাজি
গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে সারা বিশ্বে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয়েছে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ইন্টিগ্রিটি টাস্ক ফোর্স ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সব দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের কোনোটিতেই সন্দেহজনক লেনদেন বা অনিয়মের আলামত মেলেনি। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশাল বাজির বাজারে দামের ওঠানামা মানেই ফিক্সিং নয়, তবে ভেতরের তথ্য আগেভাগে পাচার হয়েছে কি না—তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক